‘রায়ের দিন মেয়র খোকনের রাজপথে থাকার নির্দেশ’

আগামী বৃহস্পতিবার বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দুর্নীতির মামলার রায়ের দিন আওয়ামী লীগের কোনো কর্মসূচি নেই বলে জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। তবে ক্ষমতাসীন দলের নেতা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন সেদিন রাজপথে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

রায়ের তিন দিন আগে সোমবার নগরভবনে কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠকে এই নির্দেশ দেন মেয়র। ‘নাশকতা’ ঠেকাতে গণমান্য এবং যুবকদের নিয়ে অবস্থান নিতে বলেছেন তিনি। মেয়র বলেন, ‘নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধান করা আমাদের দায়িত্ব।’ নগর ভবনের সভাকক্ষে ‘নাগরিক নিরাপত্তায় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা’ শীর্ষক এই মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মেয়র।

আগামী বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়ার রায়কে ঘিরে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে কথার লড়াই চলছে গত ২৫ জানুয়ারি রায়ের তারিখ ঘোষণার পর থেকেই। খালেদা জিয়াকে সাজা দিলে কঠোর শাস্তির ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। আর আওয়ামী লীগ বলছে, কোনো ধরনের নাশকতা হলে জনগণকে নিয়ে প্রতিরোধ করার। তবে এই মত বিনিময়ের দিন সকালে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে সাংবাদিকদের আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ৮ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের কোনো কর্মসূচি থাকবে না।

কিছুক্ষণ পরে মেয়র খোকন বলেন, ‘৮ ফেব্রুয়ারির দিন আমাদের প্রত্যেক কাউন্সিলর এর নেতৃত্বে প্রত্যেক এলাকায় অবস্থান নেবেন। আমরা কোন কর্মসূচি দিতে চাই না, যাতে নাগরিকরা আরও বেশি আতঙ্কিত হয়ে পরে। তবে আমাদের ঐক্যবদ্ধ শক্তি দিয়ে যে কোনো শক্তিকে মোকাবেলা করা সম্ভব।’ পুরান ঢাকার যে বিশেষ জজ আদালতে খালেদা জিয়ার মামলা চলছে, সেটি মেয়র খোকনের নির্বাচনী এলাকায় পড়েছে।

মেয়র বলেন, ‘আমাদের অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে কোন দুস্কৃতিকারী যেন কোন ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড করতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। তবে যা কিছু করা হবে সবকিছুই আইনসম্মত হতে হবে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না।’ ‘জরুরি কোনো ব্যবস্থা নিতে হলে প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে তা করা যাবে। খেয়াল রাখতে হবে একটি বিষয় সাধারণ জনগণের গায়ে যেন কোনো আঘাত না লাগে, এমনকি কোনো প্রকার হেনস্থা যেন না হয়।’

বিএনপিকে মেয়র বলেন, ‘রায় যেটাই হোক না কেন আমি আশা করব খালেদা জিয়া যেন নিয়ম মেনে থাকেন এবং বিএনপির নেতা-কর্মীদের দেশের পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করার কাজ থেকে যেন বিরত রাখেন।’ ‘জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি আশা করি বিএনপি নেত্রী নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করে আদালত থেকে খালাস পেয়ে জনগণের কল্যাণে ভূমিকা রাখবেন।’

মেয়র বলেন, ‘যদি তিনি (খালেদা) রায়ে সংক্ষুব্ধ হন, তবে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। আইনি প্রক্রিয়ায় যেন সবকিছুর সমাধান করেন। তাছাড়া আমাদের যে শক্তি এর সামনে কোন প্রকার অপশক্তি মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর ক্ষমতা রাখে না।’ মতবিনিময় সভায় ঢাকা দক্ষিণের প্রায় ৩০ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর বক্তব্য রাখেন।

২০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফরিদউদ্দিন আহমেদ রতন বলেন, ‘বিএনপি একটি সন্ত্রাসী দল, তারা অতীতের মতো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করার জন্য ইতো মধ্যে শত শত পেট্রোল বোমা তৈরি করেছে, অনেক জায়গায় তা ধরাও পরছে। রায়ের দিন নাগরিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে কর্মীদের নিয়ে মাঠে থাকলে তারা নাশকতা করার সাহস পাবে না।’

২১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল হামিদ খান বলেন, ‘বিএনপি সারাদেশেই এর আগেও নাশকতামূলক কর্মসূচি চালিয়েছে। তখন আমরা কোনো জবাব দিতে পারিনি। কিন্তু এখন সঠিক জবাব দেওয়ার সময় হয়েছে। রায়ের দিন কর্মীদের নিয়ে মাঠে থাকব, আমার এলাকায় শাহবাগ এবং গুলিস্তানে কোন ধরনের নাশকতা করার চেষ্টা করা হলে তার সমুচিত জবাব পাবে।’

২৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ওমর বিন আব্দুল আজিজ তামিম বলেন, ‘বিএনপির নেতাকর্মীরা ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে ঢাকার বকশিবাজারের আশপাশের এলাকায় জড়ো হচ্ছেন। তারা ৮ তারিখে রাজধানীতে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা ঘটনার জন্য পায়তাঁরা করছে। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি নগর আওয়ামী লীগের দিক-নির্দেশনামূলক সভা অনুষ্ঠিত হবে। তার আগেই আমরা নিজ নিজ এলাকায় আমাদের দায়িত্ব নিয়ে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি।’

‘এবার বিএনপি-জামায়াত জোটকে রাজপথে নামতে দেওয়া হবে না এবং এলাকার বিশেষ পয়েন্টগুলো আমরা নিরাপদ রাখব।’