‘প্রশাসন পাশে থাকলে নিরপেক্ষ সরকার কেন’

পুলিশ, প্রশাসন, সেনাবাহিনী যদি বিএনপির পাশে থাকলে বেগম খালেদা জিয়া কেন নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার চাইছেন সে প্রশ্নের জবাব চেয়েছেন ক্ষমতাসীন ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রায়ের তিন দিন আগে ১৪ দলের এক সভা শেষে এ কথা বলেন নাসিম।

৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী কমিটির সভায় দলের নেতাদেরকে অভয় দিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘বিএনপির সঙ্গে প্রশাসন আছে, পুলিশ আছে, সশস্ত্র বাহিনী আছে। এ দেশের জনগণ আছে। দেশের বাইরে যাঁরা আছেন, তাঁরা আছেন। কাজেই বিএনপির কোনো ভয় নেই, ভয়টা আওয়ামী লীগের।’

এর প্রতিক্রিয়ায় নাসিম বলেন, ‘খালেদা জিয়া হাস্যকর বক্তব্য দিয়ে বলেছেন তার সাথে নাকি প্রশাসসন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী আছে। সবাই যদি সাথে যদি সবাই থাকে তাহলে নিরপেক্ষ সরকার দাবি করেন কেন?’ ‘তিনি এসব কথা বলে প্রশাসন, সেনাবাহিনীর লোকদের উস্কানি দিচ্ছেন। তারা কারো ব্যক্তিগত লোক নয়। যেই সরকার আসবে সেই সরকারের অধীনেই তারা কাজ করবে। এটাই তাদের কাজ। আর খালেদা জিয়া প্রশাসনকে উস্কানি দিচ্ছে।’

আগামী বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার রায় নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিএনপি বলছে, খালেদার সাজা হলে কঠোর আন্দোলন হবে দেশে, আর আওয়ামী লীগ বলছে, কোনো ধরনের নাশকতা হলে জনগণকে নিয়ে ব্যবস্থা নেবে তারা। এই পরিস্থিতিতে রায়ের তিন দিন আগে বৈঠকে বসে ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোট। আর এই বৈঠক শেষেই জোটের অবস্থান জানান মোহাম্মদ নাসিম।

ক্ষমতাসীন জোটের মুখপাত্র বলেন, ‘রায় নিয়ে কিছু বলতে চাই না। কারণ আদালত রায় দেবে। আদালতের রায়ের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা আছে। রায় নিয়ে কে সংক্ষুব্ধ হলো, কে খুশি হলো, আমাদের তা দেখার দরকার নেই। রায় যেটা হবার তা হবেই। কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে রায় দেয়ার অধিকার আদালতের রয়েছে এবং দুর্নীতি প্রমাণিত হলেও তাঁর পক্ষে রায় দেয়ার অধিকার আদালতের রয়েছে।’ রায়ের দিন ১৪ দল সজাগ থাকবে বলেও জানান নাসিম। বলেন, ‘আমরা শুধু ৮ তারিখেই নয় আগামী নির্বাচনের আগ পর্যন্ত মাঠে থাকব। এ দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত কার স্বার্থে মাঠে থাকব।’

৩ ফেব্রুয়ারির নির্বাহী কমিটির সভায় নির্বাচনে যেতে খালেদা জিয়া যেসব শর্ত দিয়েছেন, সেগুলো মেনে নেয়া হবে না বলেও জানান নাসিম। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি দাবিই অসাংবিধানিক। এগুলো আগামী নির্বাচনকে ভণ্ডুল করার জন্যই একটি কূটকৌশল।’

‘আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই এদেশে কোন অযৌক্তিক অসাংবিধানিক দাবি মেনে নেয়া হবে না। যারা অসাংবিধানিক ধারা চেষ্টা চালায় তাদের বিরুদ্ধে ১৪ দল অতীতের মতো আবারও মাঠে নামবে।’ নাসিমের অভিযোগ, আগামী নির্বাচন ভণ্ডুল করে বিএনপি অসাংবিধানিক সরকারকে ক্ষমতায় আনার চেষ্টা করছে। পুলিশ প্রিজনে বিএনপির কর্মীদের হামলার সমালোচনা করে ১৪ দলের মুখপাত্র বলেন, ‘এটা কি কোন রাজনৈতিক দলের কাজ? এরা তো ডাকাতের দল, সন্ত্রাসী দল। তা না হলে পুলিশের উপর এভাবে কেউ হামলা চালাতে পারে না।’

‘আদালতের রায়ের আগে বিএনপির এ ধরনের কর্মকাণ্ড হলো একটি মহড়া। এটাতো জনগণের শক্তি নয়, এটা গুণ্ডামী ও ডাকাতির শক্তি। আমরা বিশ্বাস করি এ ধরনের শক্তিকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দক্ষতার সাথে মোকাবেলা করবে।’ এ সময় দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে যাওয়া আবদুল হামিদকে ১৪ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও সমর্থন জানান নাসিম।

কমিউনিস্ট কেন্দ্রর আহ্বায়ক ওয়াজেদ ইসলাম খানের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হাছান মাহমুদ, এনামুল হক শামীম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আবদুস সোবহান গোলাপ, অসীম কুমার উকিল, আফজাল হোসেন, আমিনুল ইসলাম, বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।

জোটের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দীলিপ বড়ুয়া, জাতীয় পার্টি (জেপি)র মহাসচিব শেখ শহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, জাসদের (একাংশ) সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, তরীকত ফেডারেশনের সভাপতি মজিবুল বাশার মাইজভাণ্ডারী, মহাসচিব এম এ আউয়াল, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন প্রমুখ।