বিভিন্ন দেশে কাজের জন্য ১২ লাখ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনায় প্রবাসীমন্ত্রী

চলতি ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে কাজের জন্য ১২ লাখ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম। রোববার সিরডাপ মিলনায়তনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন কক্ষে শ্রমকল্যাণ সম্মেলন-২০১৮ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান মন্ত্রী।

বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী বলেন, ‘২০১৮ সালে আমরা ১২ লাখ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে এগোচ্ছি। আশা করি আমরা পারব।’ বাংলাদেশ থেকে যাতে বেশি করে কর্মী পাঠানো যায় সে জন্য কনসুলার ও কর্মকর্তাদের নিজ নিজ দেশে (কর্মস্থল দেশ) কর্মী প্রেরণে আন্তরিক হতে আহ্বান জানান মন্ত্রী।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে লোক যাওয়া কমার কারণ জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘তেলের টাকা-পয়সার ঘাটতি হওয়ায় বাজারে কর্মীর চাহিদা কমে গেছে। তাছাড়া তাদের অবস্থা ভালো নয়, তাদের আর কর্মীর দরকার নেই। তবে আমি যোগাযোগ বাড়াচ্ছি।’

দেশের বাইরে এই মুহূর্তে নতুন করে কোনো লেবার উইং খোলার চাহিদা নেই বলে জানান মন্ত্রী। এটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিষয় বলে উল্লেখ করে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যদি আমাদের বলে যে এখানে লেবারের চাহিদা আছে তখন সেটা আমরা দেখব। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাইরে গিয়ে আমরা বিদেশে কোনো মিশন খুলতে পারি না।’

সম্প্রতি মরিসাস সফরে গিয়েছিলেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী। সেখানে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি কর্মী নেয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছে মরিসাস। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘মরিসাসে আমাদের কর্মীদের একটা চাহিদা তৈরি হয়েছে। তাদের ওখানে যত কর্মী দরকার হবে তার সব বাংলাদেশ থেকে নেবে বলে জানিয়েছে সে দেশের মন্ত্রী।’

বিভিন্ন দেশে কাজের জন্য ১২ লাখ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনায় প্রবাসীমন্ত্রী

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নমিতা হালদার বলেন, ‘বিশ্বের শ্রমবাজারে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন ঘটছে। কিছু শ্রমবাজার সংকুচিত হচ্ছে, আবার নতুন নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে। এসব পরিস্থিতিতে শ্রমকল্যাণ উইংয়ের কর্মকর্তাদের কৌশল নির্ধারণে ধারণা দেয়া এ সম্মেলনের একটি অন্যতম উদ্দেশ্য।’

সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৭ সালে বাংলাদেশ থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ১০ লাখের বেশি শ্রমিক বৈধ পথে কাজ করতে গেছেন। এটা জনশক্তি রপ্তানিতে কোনো একটি বছরের সর্বোচ্চ। এই সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩৩ শতাংশ বেশি। আর মোট শ্রমশক্তি রপ্তানিতে তিনটি দেশে গেছে প্রায় সাড়ে আট লাখ কর্মী।