প্রথমবারের মতো আজ বাংলাদেশে আসছেন সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট

প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় আসছেন সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট অ্যালেই বারসেট। রোববার দুপুর দেড়টায় তার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার কথা রয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাবেন। সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের আগমন উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

তার সফরে ‍গুরুত্ব পাবে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক এবং রোহিঙ্গা সংকট। এ ছাড়া আরো আলোচনা করা হবে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উপর জোরদার করা, উভয় দেশ অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা।

সফরকালে সুইস প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। উল্লেখ্য, কোনো সুইস প্রেসিডেন্টের এটাই প্রথম বাংলাদেশ সফর।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তাকে বিমান বন্দরে স্বাগত জানাবেন। সুইস প্রেসিডেন্টকে লাল গালিচা অভ্যর্থনা দেওয়া হবে সেখানে। এরপর তিনি যাবেন হোটেল সোনারগাঁওয়ে। সফরকালে তিনি সেখানেই অবস্থান করবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী হোটেলে গিয়ে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন সন্ধ্যা ৬টায়।

সুইস প্রেসিডেন্ট সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি)। একইদিন তিনি ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করবেন এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তিনি আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন সোমবার দুপুরের পর। তিনি সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের দেওয়া নৈশভোজে যোগ দেবেন।

প্রেসিডেন্ট বেরসে কক্সবাজারের কুতুপালং ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি)। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের সঙ্গে কথা বলবেন এবং তাদের দুর্দশা সরেজমিনে দেখবেন। সুইজারল্যান্ড শুরু থেকেই রোহিঙ্গা সংকটের মানবিক সহায়তা প্রদান করে আসছে। সফরকালে তিনি নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও বাংলাদেশে সক্রিয় সুইস ব্যবসায়ী সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

এ ছাড়াও তিনি ঢাকা আর্ট সামিট পরিদর্শনে যাবেন, যার সাথে সুইস আর্টস কাউন্সিল প্রো হেলভেশিয়া সম্পৃক্ত। উন্নয়ন সহযোগিতায় সুইজারল্যান্ড এবং বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। সুইস উন্নয়ন সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দেশ। এ ছাড়া দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক ক্রমেই বাড়ছে। ২০১০ সালের পর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে।