জনপ্রিয়তা বাড়লেও শুভাকাঙ্ক্ষী কমেছে শাকিব খানের!

বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত চিত্রনায়ক শাকিব খান। জনপ্রিয়তায়ও আছেন সবার ওপরে। কিন্তু তার পরও দিনে দিনে শুভাকাঙ্ক্ষী কমছে তার। এর একমাত্র কারণ চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। 

বিয়ের পর নায়িকাদের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়ে কিন্তু নায়কদের জনপ্রিয়তা বাড়ে। যার সবচেয়ে বড় প্রমাণ শাকিব খান। বিয়ে করে তার জনপ্রিয়তা বেড়েছে কয়েকগুণ। এখন তিনি দুই বাংলার নায়ক। কিন্তু মুদ্রার অন্য পিঠ কিছুটা অন্ধকার। জনপ্রিয়তা বাড়লেও শুভাকাঙ্ক্ষী কমেছে তার।

কারণ গত বছরের ১০ এপ্রিল বিকালে একটি টেলিভিশন চ্যানেলে ছয় মাস বয়সের ছেলে আব্রামকে সঙ্গে নিয়ে উপস্থিত হন চিত্রনায়িকা অপু। সেদিন অপু বলেন, ‘আমি শাকিব খানের স্ত্রী, আমাদের ছেলে আছে।’

আট বছর আগের বিয়ের খবর জনসমক্ষে আসার পর দুজনের সম্পর্কের টানাপড়েন তৈরি হয়। অপুকে প্রথমে স্ত্রী হিসেবে অস্বীকার করেন শাকিব। আর তখন থেকেই শুভাকাঙ্ক্ষী বাড়তে শুরু করে শাকিব খানের। সাধারণ মানুষ থেকে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা চেয়েছিলেন অপুকে মেনে নেওয়া সুন্দর সমাধান।

কিন্তু পরিস্থিতি এমন অবস্থায় পৌঁছায় যে শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস নিজেদের মধ্যে মুখ দেখাদেখি বন্ধ করে দেন। শুধু ছেলে আব্রামের কারণে মাঝেমধ্যে দেখা হলেও কথা হয়নি দুজনের। এর মধ্যে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর আইনজীবীর মাধ্যমে অপুকে ডিভোর্স লেটার পাঠান শাকিব। আবার শুভাকাঙ্ক্ষীদের তোপের মুখের পড়েন তিনি।

আগে যারা শাকিব-অপুর ভক্ত ছিলেন তারা হয়ে যান দুই ভাগে বিভক্ত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভক্তদের মধ্যে চলে কথার মারামারি। অপুর ভক্তরা সহ্য করতে পারেন না শাকিব এবং তার ভক্তদের আবার শাকিব ভক্তদেরও একই অবস্থা। কিন্তু সাধারণ মানুষ সব সময়ই অপুর পক্ষে। যে বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে এ দ্বন্দ্ব, যদিও তার গুঞ্জন চলছে অনেক দিন ধরেই।

কোনো কোনো সংবাদমাধ্যম বিশ্বস্ত সূত্র আর গোপন সূত্রের বরাত দিয়ে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে। কয়েক দিন ধরে নাম প্রকাশ না করার শর্তে শাকিব-অপুর ঘনিষ্ঠ কয়েকটি সূত্র দুজনের সংসার ভেঙে যাওয়ার কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছেন। তারা আরও বলেন, ‘দুজনের বিবাহবিচ্ছেদ এখন শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র!’ বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে সরাসরি কিছু না বললেও শাকিবের কথায় কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যায়, সংসারজীবনে তিনি মোটেও ভালো নেই।

শাকিব-অপুর ভক্তরা আলাদা হয়ে গেলেও অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী এক হয়েছেন তাদের ছেলে আব্রাম খান জয়ের জন্য। সবাই চাচ্ছেন এমন একটি ফুটফুটে ছেলের জন্য এক থাকুক শাকিব-অপু। আবার এমনও অভিযোগ আছে, এ ছেলেকেই ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন দুজন।

যেমন সম্প্রতি খবর রটেছিল ছেলে আব্রামকে ঘরের মধ্যে রেখে বাইরে থেকে তালা দিয়ে ভারত গিয়েছিলেন অপু বিশ্বাস। আর তখনই শাকিব গিয়েছিলেন আব্রামকে দেখতে। শাকিব তখনই বলেছিলেন- মাত্র এক বছরের একটি ছোট ছেলেকে কাজের মেয়ের জিম্মায় রেখে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে কোনো মা কীভাবে দেশের বাইরে চলে যেতে পারে? এটা কীভাবে সম্ভব? এটা সন্তানের প্রতি মায়ের কেমন দায়িত্ব পালন? আমার এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না। এটা আমি মানতে পারছি না। আমার ছেলের যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যায়, তা হলে এর দায় নেবে কে? ছেলের প্রতি যার দায়িত্ববোধ এটুকুই, তার প্রতি ব্যবস্থা আর কী নেব। আবার এ ছেলেকে নিয়েই কিছু আগে নাকি মিথ্যা কথা বলেছেন শাকিব।

আর এ বিষয়টা সংবাদমাধ্যমে অপু বলেছেন । শাকিবের অভিযোগ, কয়েক দিন ধরে ছেলের জন্য তার মনটা খুব কাঁদছিল। তাই তাড়াহুড়ো করে অল্প সময় নিয়ে জয়কে দেখতে এসেছিলেন। কিন্তু অপু বাচ্চাটাকে দেখতে দেয়নি। তার লোকজন অনবরত অপুর মোবাইলে কল দিলেও অপু রিসিভ করেননি। এ প্রসঙ্গে অপু বলেন, ‘শাকিব নিঃসন্দেহে একজন ভালো বাবা। তবে শাকিব এখন তার ক্যারিয়ারের জন্য যা করছে তা ঠিক নয়। ক্যারিয়ারের জন্য বাচ্চার ইমোশন পাবলিকলি উপস্থাপন করা উচিত নয়। ছেলের জন্য আর সব বাবার মতোই তারও টান রয়েছে, নিয়মিত কাছে থাকতে না পারার কষ্টও হয়তো আছে। ব্যস্ততার কারণে সে কাছে থাকতে পারে না।

কিন্তু যখন সে দেশে আসে সেই সময়টাতে তো ওর উচিত ছেলের কাছে থাকা। ও কখন দেশে আসে কখন যায় কিছুই জানি না আমি। ছেলের সঙ্গেও দেখা করার চেষ্টা করে না। লোকে মন্দ বলবে সেই ভেবে ও নিজের দোষ বারবার আমার ওপর চাপাতে চায়।’ অপুর এমন বক্তব্যের পর আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিভক্ত। কিন্তুশুভাকাঙ্ক্ষীরা সব অপুর দলেই আছেন। শাকিব খান তার অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত, ব্যস্ত আছেন ভক্ত বাড়াতে।

এই যখন অবস্থা তখন চলতি মাসে মুক্তি পাচ্ছে শাকিব খানের নতুন ছবি ‘আমি নেতা হব’।
ভাষা ও ভালোবাসার মাস ফেব্রুয়ারির ১৬ তারিখ মুক্তি পাচ্ছে উত্তম আকাশ পরিচালিত ছবিটি।
এ তথ্য জানিয়েছেন ছবির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান শাপলা মিডিয়ার কর্ণধার সেলিম খান।

তিনি বলেন, ‘১৬ ফেব্রুয়ারি ছবিটির মুক্তির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। মূলত ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষেই মুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে।’ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্মিত এ সিনেমায় নেতার চরিত্রে অভিনয় করেছেন শাকিব খান। তার বিপরীতে আছেন বিদ্যা সিনহা মিম। আট বছর পর তারা জুটি হয়ে অভিনয় করছেন। এর আগে তারা ‘আমার প্রাণের প্রিয়া’ ছবিতে অভিনয় করেছেন।