ফরিদপুরে সাঁড়ে তিন শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন দাবী

ফরিদপুর পৌরসভার গুহলক্ষীপুরে রেলওয়ের স্টেশন বাজার ও আশপাঁশের সাড়ে তিন একর জায়গার ওপর থেকে তিন শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। মঙ্গলবার রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দিনভর বুলডোজার চালিয়ে ছিন্নমূলদের দেড় শতাধিক বাড়িঘর ও প্রায় দুইশ’ দোকান উচ্ছেদ করে। রেলওয়ে ও থানা পুলিশের সহযোগিতায় এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, কোনো ধরনের আগাম নোটিশ না দেওয়ায় মালামাল বা স্থাপনা সরানো সম্ভব হয়নি। ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকেই নিজেদের কোনো সম্পত্তি নেই দাবি করে পুনর্বাসন না করে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন।

ক্ষতিগ্রস্থ আকলিমা, আনোয়ার হোসেন, মজিবর ফকির জানান, দরিদ্র মানুষের ঘর ভাঙা হলেও প্রভাবশালীদের স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়নি। তারা দাবি করেন, স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীকে সুবিধা করে দিতে দরিদ্রদের বাড়িঘরে বুলডোজার চালানো হয়েছে।

তারা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যখন বলছেন কেউ গৃহহীন থাকবে না, তখন এমন ঘটনা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’

বাংলাদেশ রেলওয়ে পাকশীর বিভাগীয় ভূসম্পদ কর্মকর্তা (পশ্চিমাঞ্চল) মো. ইউনুস আলী জানান, রেলওয়ের সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখল করে রাখা হয়েছিল, যা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এর আগে মৌখিকভাবে জায়গা পরিষ্কার করতে বলা হলেও কেউ স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় বুলডোজার দিয়ে অপসারণ করা হয়েছে।

প্রভাবশালীদের স্থাপনা না ভাঙা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যাদের বন্দোবস্তের মেয়াদ রয়েছে তাদের স্থাপনা ভাঙা হয়নি।’

অপরদিকে ফরিদপুর রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার মাসুদ রানা জানান, পদ্মা সেতুর কাজে লাগানো পাথর ভারত থেকে এই স্টেশনে এসে নামে, এখান থেকে পদ্মা সেতুতে যায়। জায়গার অভাবে পদ্মা সেতুর পাথর খালাসে সমস্যা হচ্ছিল, তাই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি