ইসলামি বিপ্লবের গতিধারাকে সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যান সর্বোচ্চ নেতা

ইসলামি বিপ্লব বিজয়ের আলোকজ্জ্বল দশ প্রভাত ইরানি জনগণের মনে আনন্দ ও দুঃখের মিশ্রণে এক অদ্ভুত অনুভূতির জন্ম দেয়। ইমাম খোমেনী (রহ.)’র নেতৃত্বে ইরানি জনগণের নজিরবিহীন ঐক্য ও সংহতি এনে দিয়েছিল বিংশ শতাব্দির সবচেয়ে বড় বিপ্লব।

যেকোনো বিপ্লবে একজন ক্যারিশম্যাটিক নেতার প্রয়োজন যিনি বিপ্লবের গতিধারাকে সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যান। ইরানের জনগণ তাদের বিপ্লবে ইমাম খোমেনীর মতো একজন ক্যারিশম্যাটিক ও বিজ্ঞ নেতা পেয়েছিল। তাঁর বিচক্ষণ নেতৃত্ব ও দিক-নির্দেশনা ছিল ইরানের ইসলামি বিপ্লবের মূল চালিকাশক্তি; যে কাজটি তিনি নির্বাসিত জীবনে থেকেও সুচারুভাবে সম্পন্ন করেছিলেন।

ফার্সি ১৩৫৭ সালের ১২ বাহমান বা ১৯৭৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারি নির্বাসিত জীবন শেষ দেশের মাটিতে ইমামের পা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাহলাভি রাজত্বের অবসান ঘটে এবং এর ১০ দিন পর ১১ ফেব্রুয়ারি ইসলামি বিপ্লবের চূড়ান্ত বিজয় ঘটে। এ সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি এক বক্তৃতায় বলেছেন, ইমাম খোমেনী (রহ.) সবচেয়ে বড় গণবিপ্লবকে সফল করে বিশ্ববাসীকে বিস্মিত করেছেন। এই বিপ্লব শুধু ইরানকে নয় সেইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যসহ গোটা বিশ্বের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়।

ইসলামি বিপ্লবের মহান রূপকার হিসেবে ইমাম খোমেনী (রহ.)’র ভূমিকা কারো অজানা নয় এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশেও এই মহান নেতার ক্যারিশম্যাটিক ভূমিকা নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে। ইমাম ইরানি জনগণের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক চেতনা সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল ছিলেন এবং তিনি এ বিপ্লবকে আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ উপহার হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বলেছেন, আল্লাহই জনগণের অন্তরে বিপ্লবের চেতনা জাগ্রত করে দিয়েছেন।

অবশ্য জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার কাজটি করেছেন ইমাম খোমেনী (রহ.) এবং তার বক্তব্যের স্পর্শে ইরানি জনগণের মন থেকে অত্যাচারী শাহ সরকারের ভয় মুছে যায় এবং তারা সাহসিকতার সঙ্গে সে সরকারের পতন ঘটায়। যোগ্য নেতৃত্ব যে শুধু ইসলামি বিপ্লবকে বিজয়ী করার জন্য প্রয়োজন তা নয় বরং আজ প্রায় ৪০ বছর পর এই বিপ্লবকে লক্ষ্যপানে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজে নেতৃত্বের গুরুত্ব অনেকাংশে বেড়ে গেছে।

ইমাম খোমেনী (রহ.) এই বিপ্লবকে সমহিমায় অক্ষুণ্ন রাখার জন্য ‘বেলায়েতে ফকিহ’ বা সর্বোচ্চ ইসলামি আইনবিদের শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। সত্যিকার অর্থেই এই শাসনব্যবস্থা ইরানের ইসলামি বিপ্লবকে আদর্শচ্যুত হওয়ার পথ থেকে রক্ষা করেছে। আর বর্তমানে এই মহান দায়িত্ব পালন করছেন ইসলামি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী।

ইসলামি বিপ্লব, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ও সর্বোচ্চ ইসলামি আইনবিদের শাসন ছিল ইরানি জনগণের প্রতি ইমাম খোমেনী (রহ.)’র অসামান্য উপহার। আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী প্রকৃত অর্থেই সেই উপহার পূর্ণরূপে সংরক্ষণ এবং শত্রুর সব ধরনের ষড়যন্ত্রের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। ইরানি জনগণের আশা- সর্বোচ্চ নেতার এই যোগ্য নেতৃত্বে ইসলামি বিপ্লব ও ইসলামি শাসনব্যবস্থা সমহিমায় টিকে থাকবে আরো বহুকাল।