জনগণের নিরাপত্তায় ৮ ফেব্রুয়ারি কঠোর অবস্থানে থাকবে পুলিশ

পুলিশের প্রধান দায়িত্ব জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেয়া। পুলিশ দৃঢ়তার সঙ্গে এ কাজ করে যাচ্ছে। যাতে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা থাকে সে জন্য ৮ ফেব্রুয়ারি কঠোর অবস্থানে থাকবে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের মিডিয়া সেন্টারে নতুন আইজিপি হিসেবে প্রথম সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন পুলিশের নতুন মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা বহুল আলোচিত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত। ওই দিন রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে চলছে নানা আলোচনা। অরাজকতা সৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে বিভিন্ন মহলে।

সামনে নির্বাচন। নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কী ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে- এমন বিষয়ে জানতে চাইলে আইজিপি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্য যোগদানের পর থেকেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। নির্বাচন পরিচালনা করা নির্বাচন কমিশনের কাজ। আমাদের কাজ জানমালের নিরাপত্তা দেয়া। জননিরাপত্তা বিধানের জন্য পুলিশ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে কাজ করবে।

মাদক নির্মূলে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, যতদিন পর্যন্ত মাদকের চাহিদা থাকবে ততদিন পর্যন্ত যোগান থাকবে। নতুন করে যাতে চাহিদা তৈরি না হয় সেজন্য যারা ইতোমধ্যে মাদকে আসক্ত তাদের কীভাবে ফিরিয়ে আনা যায় সেজন্য কাজ করতে হবে। এটা পুলিশের একক দায়িত্ব নয়।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ জঙ্গিবাদের মতই মাদক নির্মূলে কাজ করে যাব। গতকাল যখন আমাকে র্যাঙ্ক ব্যাজ পরানো হয়েছিল তখনই প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন মাদকে নির্মূলে আমাদের কঠোর হতে হবে। সেক্ষেত্রে মাদক নির্মূলে আমরা থাকব জিরো টলারেন্সে। জঙ্গিবাদ দমনের মতোই মাদক নির্মূলে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করব।

পুলিশের অপরাধ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জাবেদ পাটোয়ারি বলেন, কোনো ব্যক্তির অপরাধের দায় বাংলাদেশ পুলিশ নেবে না। দুই লাখ পুলিশ সদস্যের মধ্যে কতিপয় সদস্য অপরাধে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের আইনে এবং দেশের প্রচালিত আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

থানার সেবা বৃদ্ধির বিষয়ে আইজিপি বলেন, সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে আমাদের মূল জায়গাটি হরো থানা। গতকাল আমরা অফিসাদের সঙ্গে মিটিং করেছি। যেভাবে সেবার মান বৃদ্ধি করা যায় সেক্ষেত্রে আমরা একটি পরিকল্পনা করছি। সেটাও আপনাদের জানানো হবে। আমাদের মূল দায়িত্ব মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দেয়া। বাংলাদেশ পুলিশ আইনের মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে থেকে মানুষের জানমালের নিরাপত্তার বিধান করবে।

আগামীর পরিকল্পনা নিয়ে আইজিপি বলেন, জঙ্গিবাদ এবং মাদকের বিস্তার আমাদের সামনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে জঙ্গিবাদ দমনে পুলিশ যে সফলতা দেখিয়েছে তাতে বিশ্বের কাছে একটি রোল মডেলে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বে যখন কোনো সম্মেলন হয় তখন সেখানে বাংলাদেশ পুলিশের বেশ প্রশংসা হয়ে থাকে। বাংলাদেশ পুলিশ পেশাদারীত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। জঙ্গিবাদ দমনে পুলিশ র্যাব এবং ফায়ার সার্ভিসের যে আটজন সদস্য নিহত হয়েছেন তাদের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। তাদের পরিবারের প্রতিও আমি গভীর সমবেদনা জানাই।