‘গ্রেফতার আতঙ্ক, খালেদার গাড়িবহরে কমেছে নেতাকর্মীর সংখ্যা’

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের পরদিন পুরান ঢাকার বকশীবাজার আলিয়া মাদরাসা মাঠে হাজিরা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তবে বিগত দিনের তুলনায় বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে থাকা নেতাকর্মীদের সংখ্যা অনেক কমে গেছে।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা গেছে, বিগত দিনে খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরাকে কেন্দ্র করে হাইকোর্ট, প্রেস ক্লাব ও কাকরাইল এলাকায় খালেদার বহরে নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যেত। তবে এসব এলাকায় আজ নেতাকর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। বিশেষ করে মৎস্য ভবন, হাইকোর্ট, কদম ফোয়ারা, হাইকোর্টের মাজার গেট, দোয়েল চত্বর ও ঢাকা মেডিকেলের আশপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী থাকলেও আজ এসব এলাকায় তাদের অবস্থান ছিল না।

পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এসব এলাকা থেকে প্রায় ৫০ জন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে বলে বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তবে শাহবাগ থানা সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ ১৬ জনকে আটক করেছে। এদিকে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে খালেদা জিয়া আদালত থেকে বের হওয়ার পর চাঁনখারপুলের আশপাশের এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে অবস্থানরত কিছু নেতাকর্মীকে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে যুক্ত হয়ে স্লোগান দিতে দেখা গেছে।

এরপর গাড়িবহর অগ্রসর হওয়ার পথে পথে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত আসার পর আরও কিছু নেতাকর্মী বহরে যুক্ত হন। তবে বিগত হাজিরায় হাইকোর্টের ভেতরে অসংখ্য নেতাকর্মীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও আজ সে চিত্র ছিল ভিন্ন। খালেদা জিয়ার গাড়িবহর হাইকোর্টের মাজার গেট অতিক্রম করলেও হাইকোর্টের ভেতর থেকে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে কোন নেতাকর্মী গাড়িবহরে যুক্ত হননি। এমনকি বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

খালেদা জিয়ার গাড়িবহর কদম ফোয়ারা চত্বর অতিক্রম করার পর দলের প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীকে কালো গ্লাসের একটি গাড়ি থেকে বের হতে দেখা গেছে। এ্যানীর মতো বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা খালেদা জিয়ার গাড়িবহর বিপজ্জনক জোন হিসেবে পরিচিত হাইকোর্ট মাজার গেট ও কদম ফোয়ারা অতিক্রম করার পর গাড়িবহরে যুক্ত হন। এর আগে মঙ্গলবার রাজধানীর হাইকোর্ট এলাকায় পুলিশের প্রিজন ভ্যানে হামলা করে বিএনপি সমর্থকরা। এ ঘটনায় রমনা ও শাহবাগ থানায় তিনটি পৃথক মামলা করে বিএনপির ৭ থেকে ৮শ’ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়।