‘স্যার আমি পুলিশে চাকরি করি, তাই প্রিজন ভ্যান ছেড়ে পালায়নি’

খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরাকে কেন্দ্র করে নেতাদের ছাড়িয়ে নিতে পুলিশের ওপর বিএনপির কর্মীদের হামলা ও প্রিজনভ্যান ভাঙচুরের ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন প্রিজনভ্যানের ড্রাইভার কনস্টেবল খসরু মান্নান। মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে শাহবাগ থানায় ঊর্ধ্বতন এক পুলিশ কর্মকর্তাকে এ ঘটনার বর্ণনা দেন তিনি।

বর্ণনায় খসরু মান্নান বলেন, ‘স্যার আমি পুলিশে চাকরি করি, তাই প্রিজন ভ্যান ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারিনি। ওরা আমাকে মেরেছে। তবুও কিছু বলিনি। বিএনপির কয়েকশ নেতা-কর্মী পুলিশ ভ্যানের ওপর হামলে পড়ে। সামনে থাকা আরও দুই পুলিশ সদস্যসহ আমার ওপর হামলা চালায়। তারা গাড়ি ভাঙচুর করে। এরপর প্রিজন ভ্যানের তালা ভেঙে ওদের দুই লোককে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।’

তিনি আরও জানান, বেলা আড়াইটার দিকে শাহবাগ থানার এসআই রাইবুল হাসান বিএনপির দুজন কর্মীকে আটক করে হাই কোর্টের সামনে জাতীয় ঈদগাহ গেটে রাখা প্রিজন ভ্যানে নিয়ে আসেন। এর কিছুক্ষণ পরে আমি বলেছিলাম, স্যার আসামি দু’জনকে থানায় রেখে আসি। কিন্তু উনি না শুনে উল্টো আমাকে ধমক দেন। এরপর সাড়ে ৩টার দিকে খালেদা জিয়ার গাড়ি বহর আসে। ওই সময় কয়েকশ নেতা-কর্মী গাড়ির সামনে ও পেছনে মিছিল করছিলেন।

মিছিলটি প্রিজন ভ্যানের কাছে আসতেই ভিতরে থাকা আটক দুজন চিৎকার দিয়ে ওঠে। আমাদের ধরে এনেছে, আমাদের বাঁচাও, আমাদের বাঁচাও। এরপরই মূলত নেতা-কর্মীরা গাড়ির ওপর হামলা চালায়। আমিসহ পুলিশের তিন সদস্যকে মারধর করে। গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। লাথি মারে। গাড়ির জানালা ও লুকিং গ্লাস ভেঙে ফেলে। দুই পুলিশের কাছে থাকা দুটি বন্দুকও ভাঙচুর করে। ওই দুই পুলিশ সদস্য দৌড়ে পালালে হামলাকারীরা প্রিজন ভ্যানের তালা ভেঙে দু’জনকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

‘আশপাশে আর কোনো পুলিশ ছিল কিনা?’ জানতে চাইলে ড্রাইভার মান্নান অভিযোগ করে বলেন, আশপাশে অনেক পুলিশ ছিল, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেনি। প্রিজনভ্যানেও পুলিশ চেয়েছিলাম তবুও দেয়নি।