‘রায় নিয়ে বিশৃঙ্খলা করলে পরিণতি ভয়াবহ হবে’

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দুর্নীতির মামলার রায় নিয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করলে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। রায় ইস্যুতে এমন কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে এর দায় বিএনপিকেই নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। বুধবার ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটির গোলটেবিল মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু একাডেমির উদ্যোগে চলমান রাজনীতি নিয়ে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

কামরুল বলেন, ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় কী হবে তা আদালত জানে। আওয়ামী লীগ আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু বিএনপির নেতাদের কথাবার্তায় প্রমাণ হয়েছে তারা আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়। এজন্য রায় নিয়ে তারা দেশে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে বিএনপি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা বিলম্বিত করার কৌশল গ্রহণ করেছিল। বিএনপি নেত্রীর এ মামলার কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চললে দুই বছর আগে মামলার বিচার শেষ হতো। তখন তারা রায়ের পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করার যথেষ্ট সময় পেত।’

কামরুল বলেন, ‘বিএনপি নেত্রীর বিরুদ্ধে এই মামলা বর্তমান সরকার দেয়নি। সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার এই মামলা দায়ের করেছিল। এই মামলায় সরকারের কোনো হাত নেই, আদালত যে রায় দেবে সেটাই হবে। কিন্তু বিএনপি নেতাদের বক্তব্যে প্রমাণ হয় তারা আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়।’

নির্বাচন বানচালের অধিকার যেমন বিএনপির নেই, তেমনি নির্বাচন প্রতিহত করার শক্তিও তাদের নেই দাবি করে কামরুল ইসলাম বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ইসির অধীনে অনুষ্ঠিত হবে। ক্ষমতাসীন সরকারের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান থাকবেন। বিএনপির নির্বাচনকালীন সরকারে থাকার কোনো সুযোগ নেই। কারণ বর্তমান সংসদে বিএনপির কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই।’

বঙ্গবন্ধু একাডেমির উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এম এ কাদের খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নুরুল আমিন রুহুল, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার ও বঙ্গবন্ধু একাডেমির মহাসচিব হুমায়ুন কবির মিজি প্রমুখ।