লাইসেন্স না নিলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিবে ভ্রাম্যমাণ আদালত

১৯৫৬ সালের কন্ট্রোল অব এসেনশিয়াল কমোডিটি অ্যাক্ট অনুযায়ী, এক মেট্রিক টনের বেশি চাল, গম, ভোজ্যতেল, চিনি ও ডাল ব্যবসায়ীদের খাদ্য অধিদফতর থেকে লাইসেন্স নেয়া বাধ্যতামূলক। একই সঙ্গে মজুদের পাক্ষিক হিসাবও খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে দেয়ার বিধান রয়েছে। কন্ট্রোল অব এসেনশিয়াল কমোডিটি অ্যাক্ট অনুযায়ী, খাদ্য অধিদফতর থেকে লাইসেন্স না নেয়া চাল ও গমের খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ী, আমদানিকারক ও মিলারদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কিন্তু ৬১ বছর পার হলেও আইনটি বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেয়নি সরকার। গত বছর চালের মূল্য অস্বাভাবিক বাড়লে সমালোচনার মুখে আইনটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয় সরকার। খাদ্য অধিদফতরের পরিচালক (সরবরাহ, বণ্টন ও বিপণন) কাজী নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আইন অনুযায়ী ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স দেয়ার প্রক্রিয়া চলমান। একটা সময় পর যেসব ব্যবসায়ী ও মিলার লাইসেন্সের আওতায় আসেনি তাদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে তালিকা পাঠিয়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে শাস্তির আওতায় আনা হবে। শিগগিরই আমরা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দিকে যাবো।’

এ সংক্রান্ত আইনে তিন বছরের কারাদণ্ড বা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে বলেও জানান তিনি।

পরিচালক বলেন, ‘১৯৫৬ সালের আইনে কোনো মামলা হয়েছে বলে আমার জানা নেই। মোবাইল কোর্ট আইনের তফসিলে কন্ট্রোল অব এসেনশিয়াল কমোডিটি অ্যাক্টটি অন্তর্ভুক্ত করা আছে। কিন্তু কোনো এনফোর্সমেন্ট হয়নি। আমরা এটা শুরু করবো।’

চালের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে গত বছরের ২ অক্টোবর আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক (আরসি ফুড) ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকদের (ডিসি ফুড) সঙ্গে বৈঠকের পর খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, চাল ও গমের ব্যবসায়ী ও মিলারদের ৩০ অক্টোবরের মধ্যে লাইসেন্স নেয়ার সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে।

ওই দিন খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অজ্ঞতার কারণেই হোক বা অন্য কোনো কারণে হোক এতদিন এ বিষয়ে সচেতন ছিলেন না খাদ্য কর্মকর্তারা। আইনটি তারা কার্যকর করেননি। এ আইন অনুযায়ী মিলারকে খাদ্য অধিদফতর থেকে লাইসেন্স নিতে হবে। একই সঙ্গে আমদানিকারক, পাইকারি ব্যবসায়ী, আড়তদার, খুচরা ব্যবসায়ী- প্রত্যেককেই কিন্তু লাইসেন্স নিতে হবে খাদ্য অধিদফতর থেকে।’

খাদ্য অধিদফতরের এক কর্মকর্তা জানান, ওই সিদ্ধান্তের পর গত বছরের অক্টোবর মাসে ১৮ হাজার আটটি এবং নভেম্বর মাসে ছয় হাজার ১৯৮টি নতুন খাদ্যশস্য লাইসেন্স ইস্যু করা হয়। বর্তমানে লাইসেন্সধারী ব্যবসায়ীর সংখ্যা ৬৩ হাজার ৩৭১ জন।

তিনি আরো জানান, ব্যবসায়ীদের তুলনায় নতুন লাইসেন্স ইস্যুর সংখ্যা সন্তোষজনক নয় বলে সম্প্রতি এ সংক্রান্ত এক সভায় মত প্রকাশ করেছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

তবে চাল, গম, ভোজ্যতেল, চিনি ও ডাল ব্যবসায়ীদের সংখ্যার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান নেই। তবে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের ধারণা, কয়েক লাখ ব্যবসায়ী এসব পণ্যের ব্যবসা করছেন।

এ বিষয়ে পরিচালক কাজী নুরুল ইসলাম বলেন, ‘লাইসেন্সধারী খাদ্যশস্য ব্যবসায়ীদের ডাটাবেজ প্রণয়নের কাজ করছি আমরা। আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও প্রধান নিয়ন্ত্রকের কাছে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া লাইসেন্স নেই এমন খাদ্যপণ্য ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করতে সার্ভে করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা যাতে সহজে অনলাইনে লাইসেন্স নিতে পারেন, সেই বিষয়ে আমরা চিন্তা করছি। এজন্য একটা অ্যাপ ডেভেলপ করা হবে। এর মাধ্যমে আমরা মজুদসহ অন্যান্য তথ্যও সংগ্রহ করবো। অ্যাপের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে।

কোন কোন ব্যবসায়ীকে লাইসেন্স নিতে হবে এবং কী পরিমাণ খাদ্যশস্য বা খাদ্যসামগ্রী (চাল, ধান, গম, চিনি, ভোজ্যতেল, ডাল) কতদিন মজুদ করা যাবে, তা নির্ধারণ করে ১৯৫৬ সালের কন্ট্রোল অব এসেনশিয়াল কমোডিটি অ্যাক্ট’র অধীনে ২০১১ সালের ৪ মে একটি আদেশ জারি করে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

ওই আদেশে বলা হয়, অনুমোদিত প্রত্যেক লাইসেন্সধারী ব্যবসায়ীকে খাদ্যসামগ্রী আমদানি, ক্রয়, মজুদ ও বিক্রির হিসাব লাইসেন্স দেয়া কর্তৃপক্ষের কাছে নির্ধারিত ছকে পাক্ষিক ভিত্তিতে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।

অপরদিকে সরকারের মনোনীত কর্মকর্তা ও লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষকে প্রাপ্ত তথ্যাদি প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে বলেও ওই আদেশে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু এতদিন এসব নিয়ম মানা হয়নি।