‘বিএনপি শুধু ধ্বংস করে জানে, সৃষ্টি করতে জানে না’

বিএনপি কর্মকাণ্ডকে সহিংস কর্মকাণ্ড উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি শুধু ধ্বংস করে জানে, সৃষ্টি করতে জানে না। তারা যানবাহনে আগুন লাগিয়েছে, পেট্রোলবোমা মেরেছে। তাদের সহিংসতায় ৩ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। তারা এখন মানবেতন জীবনযাপন করছেন।’

তিনি বলেন, তিন হাজারের বেশি শ্রমজীবী আর সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন। বিএনপি-জামায়াতের পেট্রল বোমার আগুনে ৩ হাজার ৫২টি গাড়ি পুড়েছে। বিএনপির পেট্রোলবোমার আগুনে ৩ হাজার ৩৬ জন মানুষ অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। তারা এখনো ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন, দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন।

মঙ্গলবার বিকেলে সিলেটের আলিয়া মাদরাসা মাঠে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির কারণে বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। তাদের আমলে বাংলা ভাইয়ের সৃষ্টি, জঙ্গিবাদের সৃষ্টি।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এটিকে ক্ষমতাসীন দলের প্রথম প্রচারণামূলক সভা শুরু হলো জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন ঠেকানোর নামে সন্ত্রাস-তাণ্ডব চালিয়েছিল। সেই সময় অনেক মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। হাজার হাজার গাছ কেটে ফেলে। আমরা গাছ লাগাই, তারা গাছ কেটে ফেলে, আমরা রাস্তা করি, তারা ধ্বংস করে। তবে আমরা তাদের সেই জ্বালাও-পোড়াও কঠোর হাতে দমন করেছি।

তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক পট-পরিক্রমার প্রসঙ্গ তুলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন। কিন্তু ‍দুভার্গ্য ৭৫ এ ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। আমরা দুই বোন বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যাই। ৭৫ পরবর্তী যারা ক্ষমতায় এসেছেন তারা নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নের চেষ্টা করেছে, তাদের হাতে জনগণ বঞ্চিত হয়েছেন। ৭৫ এর পরবর্তী ১৯টি ক্যু হয়েছে। আমাদের অগণিত নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে।’

হাসিনা বলেন, ‘সবচেয়ে দুভার্গ্যজনক আমাদের অর্থমন্ত্রী শাহ এম এস কিবরিয়া ও শ্রমিক নেতা আহসান উল্লাহ মাস্টারকে বিএনপি হত্যা করেছে।’

বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপির আমলে বাংলা ভাই, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি হয়। একইদিতে ৬৩ জেলায় ৫০০ বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় জঙ্গিরা। হযরত শাহজালালের মাজারেও বোমা হামলা হয়েছে। এর প্রতিবাদ কর্মসূচি চলাকালে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে আমাদের ২২ জন নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে অগ্রগতি হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ৯৬ সালে আমরা মাত্র ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পেয়েছিলাম। এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন ১৬ হাজার মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে।

জিডিটাল বাংলাদেশের প্রমঙ্গ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজ বাংলাদেশের ৯০ ভাগ মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন। কে দিয়েছে মোবাইল ফোন? আমি দিয়েছি। কম্পিউটার সরঞ্জামের ওপর থেকে কর প্রত্যাহার করেছি।’

‘আমরা সারাদেশে ৫৭২৫ টি ডিজিটাল সেন্টার করেছি। ৮৪০০ টি পোস্ট অফিসকে ডিজিটাল করেছি’ বলেন শেখ হাসিনা।

বিএনপির কাজ ধ্বংস করা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘বিএনপি ধ্বংস করতে জানে, তারা সৃষ্টি করতে জানে না। আমরা হাজার হাজার গাছ লাগাই আর তারা গাছ কাটে। আমরা রাস্তা বানাই, তারা রাস্তা কাটে।’

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শিক্ষার হার বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘৯৬ সালে আমরা শিক্ষার হার ৬৫ শতাংশ করেছি। ২০০১ সালে বিএনপি এসে তা ৪৫ শতাংশে নামিয়ে আনে। আমরা ক্ষমতায় এসে শিক্ষার হার বাড়াতে নানামুখি পদক্ষেপ নিয়েছি। এখন  শিক্ষার হার ৭২ শতাংশ। ১ জানুয়ারি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে বই দেওয়া হয়েছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। কারো কাছে আমাদের ভিক্ষার হাত পাততে হয় না। আমরা বিজয়ী জাতি, বিজয়ী জাতি হিসেবেই বাংলাদেশকে গড়ে তুলব।

নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকালে সিলেটে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকালে তিনি হযরত শাহজালাল (র.), হযরত শাহপরাণ (র.), হযরত বোরহান উদ্দিনের মাজার জিয়ারত করেন। এই মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারে নামলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সিলেটে আজ ৩৮ টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন শেখ হাসিনা।