বামপন্থীদের ধর্মঘট, সচল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে হামলার প্রতিবাদে বামপন্থীদের ডাকা ছাত্র ধর্মঘটে প্রায় স্বাভাবিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। হাতে গোনা কয়েকজন শিক্ষক কর্মবিরতি পালন করলেও অন্যরা ক্লাস নিয়েছেন, পরীক্ষাও হয়েছে স্বাভাবিভাবেই।

গত ২৩ জানুয়ারির নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীদের ব্যাপানে বামপন্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে আজ সোমবার দেশজুড়ে ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দেয় বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর এক মোর্চা প্রগতিশীল ছাত্রজোট। এই কর্মসূচিতে সমর্থন দেয় নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দের ব্যানারে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোও।

হামলার পরদিন ডাকা এই কর্মসূচিতে সব শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জনের আহ্বান জানান বামপন্থী ছাত্র নেতারা। কিন্তু তাদের আহ্বানে দৃশ্যত কোনো সাড়া মেলেনি। সকালে ধর্মঘট আহ্বানকারীরা কলাভবনের একটি গেইটে তালা ঝুলিয়ে দেয় ‘নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দ’। সেখানে তারা অবস্থান নিয়ে সমাবেশ করে।

সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের কঠোর সমালোচনা করে ‘নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দের’ সমন্বয়ক মাসুদ আল মাহদী অপু বলেন, ‘সেই সব শিক্ষকদের আমরা কখনও সম্মান করব না যারা তার শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করে, যারা নারী শিক্ষার্থীদের যৌন নিপীড়নের বিচার করে না, যারা নিজের শিক্ষার্থীদের ছাত্রলীগ দ্বারা নির্যাতন করে।’

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র আলমগীর কবির বলেন, ‘আমরা আহ্বান জানাচ্ছি, আজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা নিপীড়নবিরোধী, তারা যেন ধর্মঘট সফল করতে অংশ নেয়। সাধারণ শিক্ষার্থীরা যে নিপীড়কদের পক্ষে নয়, এটা আজ ধর্মঘট কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে বোঝা যাবে।’ তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচিতে যে সাড়া দেয়নি সেটি স্পষ্ট হয় কিছুক্ষণ পরেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ভবনে ক্লাস-পরীক্ষা চলতে দেখা যায়।

সকাল ১০টার দিকে ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, কলা ভবনের অন্য তিনটি গেট দিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা প্রবেশ করছে। একই ধরনের চিত্র দেখা যায়, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ একাডেমিক ভবনগুলো, মোতাহার হোসেন ভবন, মোকাররম ভবন, কার্জন হল, শিক্ষা গবেষণা ইনস্টিটিউটে।

ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি তুহিন কান্তি দাশ বলেন, ‘আজকের ধর্মঘটে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমর্থন ছিল। কিন্তু শিক্ষার্থীদের জোর করে ক্লাসে নিয়ে আসা হয়েছে।’ কোন কোন বিভাগের ক্লাস বন্ধ ছিল জানতে চাওয়া হলে কোন বিভাগের নাম বলতে পারেনি তুহিন।

তবে বামপন্থি এই ছাত্রজোটের ধর্মঘটে সর্মথন জ্ঞাপন করে ক্লাস বর্জন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের বেশ কয়েকজন শিক্ষক। বেলা ১২টায় ধর্মঘট সমাপ্ত ঘোষণা করে আন্দোলনকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে। সেখানে মঙ্গলবার বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ একে এম গোলাম রব্বানীর বিচার পদত্যাগ দাবি করার পাশাপাশি গত ১৫ জানুয়ারি থেকে ২৩ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিচার দাবি করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাত সরকারি কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে গত ১৫ জানুয়ারি উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। সেই কর্মসূচিতে ছাত্রলীগ চড়াও হয়েছে বলে অভিযোগ ছিল। আর সেখানে মেয়েদেরকে কটূক্তি করার অভিযোগ এনে ‘নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দের’ ব্যানারে আন্দোলন শুরু করে বামপন্থীরা।

১৭ জানুয়ারি তারা প্রক্টর গোলাম রব্বানীকে ঘেরাও করতে যায়। এ সময় প্রক্টরের কার্যালয়ের ফটক ভাঙে তারা। এতে অজ্ঞাত ৫০-৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এরপর থেকে আন্দোলনে সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিল, ‘যৌন নিপীড়নের’ অভিযোগে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বহিষ্কারের পাশাপাশি যু্ক্ত হয় মামলা প্রত্যাহার ও প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি।

আর ২৩ জানুয়ারি উপাচার্য আখতারুজ্জামানের কার্যালয়ের ফটক ভাঙচুর এবং তাকে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় অবরোধ করে রাখার পর ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা এসে পিটুনি দিলে এই হামলার বিচার এবং আহতদের চিকিৎসার খরচ দেয়ার দাবিও যোগ হয়। পাশাপাশি অবিলম্বে ডাকসু নির্বাচন দেয়ার দাবিও জানাচ্ছে বামপন্থী শিক্ষার্থীরা।

ধর্মঘটের সমর্থনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি তুহিন কান্তি দাশ, ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজির, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি ইভা মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক সালমান সিদ্দিকী প্রমুখ।