শুদ্ধ বাংলা বলাতেই স্মার্টনেস মনে করেন উদীয়মান উপস্থাপিকা নীল

বাংলাদেশের উদীয়মান উপস্থাপিকাদের মধ্যে একজন হলেন নীল এইচ জাহান। অসাধারণ বাচন ভঙ্গি। আর বাংলা ও ইংরেজি দুটি ভাষাতেই বিশেষ দখল থাকায় তার উপস্থাপনায় মনোমুগ্ধ হয়ে থাকেন দর্শকরা।

এই মুহূর্তের ব্যস্ততা পড়াশোনা আর উপস্থাপনা নিয়ে। কম্পিউটার সায়েন্সের দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছেন নীল। তাই পড়ালেখা শেষ করতে আর একটু সময় লাগবে। মাঝে মধ্যে পরিচিত কিছু কাছের মানুষের অনুরোধে ফটোশুট করেন। শুরুটা করেছিলেন ২০১৪ সালে রেডিও জকির মাধ্যমে। এরপর আরজে থেকে সরাসরি পা রাখেন টেলিভিশনের পর্দায়।

এসময়ের বাংলা-ইংরেজি মিশিয়ে উপস্থাপনা করা নিয়ে কথা বলেন নীল এইচ জাহান। জানান তার মতামত। তিনি বলেন- ‘এখানে দুইটা দিক আছে। যদি আমি ভাষার বিকৃতি করি, তবে সেটা খারাপ। আমি শ্রদ্ধা রেখেই বলতে চাই আমাদের সম্মানীয় অনেকেই বলেন, একই সাথে বাংলা ইরেজি শব্দ একই লাইনে ব্যবহার করা খারাপ। এখানে আমার মতমত একটু ভিন্ন। আমি বাংলাকে পছন্দ করি। অনেকে প্রশংসাও করেন আমার বাংলা অনেক ভালো। তবে আমি সব সময় বাংলা বলার চেষ্টা করিনা। কারণ, আমার বিশ্বাসটা হচ্ছে এরকম যে ভাষাটা গতিশীল। আপনি কখনো ভাষাকে বাঁধা দিয়ে রাখতে পারবেন না। যখনই আমাদের ভাষায় বাইরের শব্দগুলো যুক্ত হয়েছে তখনই আমাদের ভাষাটা সমৃদ্ধ হয়েছে। ইংরেজি পারি বলেই যদি বাংলা ভাষার উচ্চারণটা ইংরেজির মত হয়ে যায় তবে সেটা খারাপ। যেহেতু আমার মাতৃভাষা বাংলা, তাই বাংলায় বলাটাই আমার স্মার্টনেস।

আমাদের দেশের উপস্থাপনা বাইরের দেশের তুলনায় কতোটা মানসম্মত সেটা যদি তুলনা করতে চাই তবে বলতে হবে দুটোই ভিন্ন। কারণ, আমাদের দেশের কালচার আর বাইরের দেশের কালচার একদম ভিন্ন। আমাদের জায়গা থেকে আমরা ভালো আছি। কিন্তু কিছু সময় আমাদের সব কিছু একটু বাঁধা ধরা হয়। আমরা একটু ভয়ে থাকি, ফরমাল থাকতে হয় সব সময়। এটাও হয়তো সামনে কাটিয়ে উঠতে পারবে। আমাদের অনেক বাঁধা ধরা নিয়ম থাকে। কিন্তু ওদের থাকে না। সে জায়গা থেকে বলতে পারি আমরা ওদের থেকে একটু পিছিয়ে।’

বর্তমানে বাংলাদেশের উপস্থাপিকা মুনমুনের উপস্থাপনা তার ভালো লাগে বলে জানান তিনি। নাটক ও সিনেমায় আগ্রহ নেই তা কিন্তু নয়। তবে মূলত তার আগ্রহটা উপস্থাপনায়। তারপরও যদি কখনো ভালো কিছু পান তবে করবেন। হুটহাট কিছু করতে চান না তিনি। তাহলে শেষ পর্যন্ত কি উপস্থাপনা নিয়েই থাকবেন কিনা সেসম্পর্কে বলেন- ‘শুধুমাত্র উপস্থাপনায় বেঁধে রাখবো না নিজেকে। যদি ভালো কিছুর সুযোগ পাই তবে উপস্থাপনার পাশাপাশি করবো।’ বর্তমানে নিয়মিত দুইটা জায়গায় কাজ করছেন এই উপস্থাপিকা। বাংলা ভিশনে ৩টি আর এনটিভিতে একটি।

নীল অবসরে ঘুরতে ভালোবাসেন। বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে তার ভালো লাগে। মাঝে মাঝে কবিতাও লিখেন নীল। মূলত ভালোবাসার ও কষ্টের কবিতা লিখতে ভালোবাসেন নীল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, আল মাহমুদ ও সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতা ভালো লাগে তার। কবিতার বই প্রকাশ অনেক বড় একটা ব্যাপার। তাই বর্তমানে তা নিয়ে ভাবছেন না নীল। তবে চেষ্টা করলে কখনো ভাবতে পা্রেন। এই সময় তিনি আসলে এটার জন্য প্রস্তুত না। আরো সময় দরকার।

বিয়ে নিয়ে এখনো কিছু ঠিক করেননি বলে জানান নীল। বাবা-মা’র ইচ্ছার বাইরে বিয়ে করবেন না বলেও জানান এই উপস্থাপিকা। কিন্তু সেটাতে নিজেরও পছন্দ থাকতে হবে। বাবা-মা’র পছন্দের হলে তারও পছন্দ হতে হবে। আবার তার পছন্দের হলে সেটা বাবা-মা’রও পছন্দের হতে হবে।

সবার মতো নীলেরও একটি স্বপ্ন আছে। আর তা হলো উপস্থাপনায় নিজেকে টপে দেখতে চান এই তরুণী।