নিয়াজুলের খোয়া যাওয়া পিস্তলটি উদ্ধার করেছে পুলিশ!

নারায়ণগঞ্জের নিয়াজুল ইসলাম খানের খোয়া যাওয়া পিস্তলটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। ফুটপাতে হকার বসানো নিয়ে মেয়র ও সাংসদের সংঘর্ষের মধ্যে অস্ত্র হাতে তেড়ে যায় নিয়াজুল ইসলাম খান। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শরফুদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে নগরীর চাষাঢ়ায় সেইন্ট পলস চার্চের সামনে একটি ফুলের টবে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় অস্ত্রটি পাওয়া যায়।

“পিস্তলের ম্যাগাজিনে ১০ রাউন্ড গুলি ছিল। অস্ত্রটি উদ্ধার হলেও নিয়াজুলকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন সম্প্রতি ফুটপাত দখলমুক্ত করতে নামলে হকারদের পক্ষে নেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান। হকারদের বসতে না দিলে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন তিনি। এ নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে গত ১৬ জানুয়ারি বিকালে মেয়র আইভী নিজের সমর্থকদের নিয়ে মিছিল করে চাষাঢ়া এলাকায় গেলে সেখানে শামীম ওসমানের অনুসারীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাঁধে। তাতে মেয়র আইভীসহ অর্ধশতাধিক আহত হন।

ওই ঘটনার সময় নিয়াজুলসহ কয়েকজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়। পিস্তল উঁচিয়ে তেড়ে যাওয়া নিয়াজুলকে ধরে পিটুনি দেয় আইভী সমর্থকরা। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। একসময় যুবলীগের রাজনীতিতে জড়িত থাকা নিয়াজুলকে চাষাঢ়ার মানুষ চেনে সাংসদ শামীমের অনুসারী হিসেবে। শামীম ১৯৯৬ সালে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পরই নিয়াজুল অস্ত্রের লাইসেন্স পান বলে সংবাদমাধ্যমের খবর।

১৯৮৮ সালের জোড়া খুনের মামলার আসামি নিয়াজুলের বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, ভূমি দখলে জড়িত থাকারও অভিযোগ রয়েছে। অস্ত্র হাতে নিয়াজুলের ছবি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার মধ্যে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়। পুলিশ সুপার মঈনুল হক সে সময় বলেন, অস্ত্রধারী নিয়াজুলকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। পুলিশ তাকে খুঁজছে।

আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, “অস্ত্রধারীদের ভিডিও ফুটেজ দেখে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা কাউকে ছাড়ব না।”

কিন্তু ওই রাতেই জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় নিয়াজুলের পক্ষ থেকে একটি জিডি করা হয়েছে, সেখানে ‘হামলা চালিয়ে’ নিয়াজুলের অস্ত্রটি ‘ছিনতাইয়ের জন্য’ মেয়র আইভীর সমর্থক ১৭ জনকে দায়ী করা হয়েছে।

এদিকে ঘটনার পাঁচদিন পর মেয়র আইভীকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে নিয়াজুলসহ নয় জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় আরও হাজার খানেক আসামির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দাখিল করেন সিটি করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা জি এম এ সাত্তার। পুলিশ তা মামলা হিসেবে না নিয়ে জিডি হিসেবে রের্কড করে। সেদিন সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের উপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে অজ্ঞাতপরিচয় পাঁচ শতাধিক লোকের বিরুদ্ধে আলাদা একটি মামলা করেছেন সদর থানার পরিদর্শক জয়নাল আবেদীন।

জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আইভীর দাবি, তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই সেদিন হামলা চালানো হয়েছিল এবং এর পেছনে ছিলেন শামীম ওসমান।

অন্যদিকে নগর আওয়ামী লীগের নেতা শামীমের  দাবি,  সংঘর্ষ সিটি করপোরেশনের সঙ্গে হকারদের; আইভীর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ নেই।

সেদিন নিয়াজুলের উপর হামলা হলে আত্মরক্ষায় নিজের লাইসেন্স করা পিস্তল বের করেছিলেন তিনি, তবে কোনো গুলি ছোড়েননি বলেও দাবি করেন শামীম।