‘পদ্মাবত’ মুক্তি নিয়ে ভারত জুড়ে মিছিল, ভাঙচুর!

হাজারো ঘাত প্রতিঘাত পেরিয়ে অবশেষে মুক্তি পেল সঞ্জয় লীলা বনশালীর বহু বিতর্কিত ছবি পদ্মাবত। ছবি মুক্তির আগেই দেশের নানা জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে সহিংস বিক্ষোভ। রাজপুত কার্ণি সেনা হুমকি দিয়েছে, পদ্মাবতের মুক্তি তারা যে কোনও মূল্যে রুখবে।

সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পেতে ‘পদ্মাবতী’ নাম পরিবর্তন করে ‘পদ্মাবত’ করা হয়েছে। আইনি জটিলতা কাটিয়ে ছবি মুক্তির নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টও। কিন্তু ছবি মুক্তির একদিন আগেই বুধবার ‘পদ্মাবত’কে কেন্দ্র উত্তাল হয়ে উঠল ভারতের একাংশ। রাজস্থান, হরিয়ানা, গুজরাট, মহারাষ্ট্র সহ বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে একপ্রকার তাণ্ডব চালাল কার্নি সেনার সমর্থকরা।

দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের এই রাজ্যগুলোর একাধিক জায়গায় পথ অবরোধ থেকে শুরু করে বাসে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ কোন কিছুই বাদ গেল না। এমনকি যে সিনেমাহলগুলোতে আগামীকাল এই ছবিটি মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল, বাদ যায়নি সেই হল গুলোও। রীতিমতো তাণ্ডব চালানো হয়েছে সেগুলোতে।

আমেদাবাদের সিনেমা হল, মলগুলোতে ভাঙচুর চালানো হয়। প্রায় ১৫টির মতো মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গুরগাও’এ আগামী রবিবার পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি বলবৎ থাকছে।

রাজস্থানেও বিভিন্ন জায়গায় মিছিল, সড়ক অবরোধ, সিনেমা হলের সামনে আগুন জ্বালানো, গাড়ি ভাঙচুর করে বিক্ষোভ দেখায় কার্নি সেনার সমর্থকরা। দিল্লি-জয়পুর জাতীয় সড়কে অবরোধের ফলে অসুবিধায় পড়েন সাধারণ মানুষ। বিক্ষোভের জেরে রাজস্থানে চিতোরগড় দুর্গ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় প্রশাসন। বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশ এমনকি জম্ম্-কাশ্মীরেও বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।

এছাড়া বিক্ষোভকারীদের হাত থেকে রেহাই পায়নি স্কুলের শিক্ষার্থীরাও। গুরুগ্রামে স্কুল বাস লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়ার অভিযোগ ওঠেছে কারনি সেনার সমর্থকদের বিরুদ্ধে। সেসময় জিডি গোয়েঙ্কা ওয়ার্ল্ড স্কুলের বাসের ভিতরই ছিলেন দ্বিতীয় থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অন্য কর্মীরা।

এদিকে, বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে পুলিশও লাঠিচার্য, টিয়ার গ্যাস এমনকি শূণ্যে গুলিও চালায়। তবু বিক্ষোভকারীদের শান্ত করা যায়নি। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একাধিক ব্যক্তিকে আটকও করা হয়েছে।

‘পদ্মাবত’ বিক্ষোভের আঁচ এসে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গেও। ছবির পরিচালক সঞ্জয় লীলার কুশপুতুল পোড়ানোর অভিযোগ ওঠে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে। আসানসোলের মুর্দাশোলে ভিএইচপি’র সদস্যরা বিক্ষোভ দেখান। বিক্ষোভের ফলে জানজট সমস্যা সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ এসে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়।

এদিকে পদ্মাবত ইস্যুতে ছবি নির্মাতাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিনি জানান, এ রাজ্যে যদি ছবিটি দেখানো হয় তবে তিনি খুশিই হবেন এবং আইন-শৃঙ্খলার দিকটিও কঠোর হাতে দেখা হবে।

আগামীকাল ‘পদ্মাবত’কে ঘিরে কলকাতায় যাতে কোন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সেদিকে খেয়াল রেখে ইতিমধ্যেই কলকাতা শহরের প্রতিটি সিনেমা হল, মাল্টিপেক্স-এ নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। প্রতিটি থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এলাকায় অবস্থিত প্রতিটি সিনেমাহলগুলোতে কড়া নজর রাখার।

এ ব্যাপারে মমতা জানান ‘আমি মনে করি আদালত ইতিমধ্যেই রায় দিয়ে দিয়েছে। সকলেই এই রায় মেনে নেওয়া উচিত। এটা একটা সাংবিধানিক সংস্থা। ‘পদ্মাবতী’ নাম পরিবর্তন করে ‘পদ্মাবত’ করা হয়েছে। সরকারের উচিত আদালতের এই নির্দেশ মেনে নেওয়া। এ রাজ্যে যদি এই ছবিটা মুক্তি পায় তবে আমি খুব খুশি হবো’।

বিক্ষোভকারীদের তোপ দেগে মমতা বলেন ‘আইন-শৃঙ্খলা রক্ষণাবেক্ষণ করা উচিত। বজরং দলসহ যে সংগঠনগুলো এই বিক্ষোভ দেখিয়েছে, বিজেপি’র উচিত তাদের নিয়ন্ত্রণ করা। আমি সকলের কাছেই শান্তির আবেদন জানাচ্ছি’।

উল্লেখ্য, মেবারের রানি পদ্মাবতীর জহরব্রত নিয়ে ছবিটি তৈরি করেছেন পরিচালক সঞ্জয় লীলা বনশালি। ছবিটিতে রানি পদ্মীনি চরিত্রে অভিনয় করেছেন দীপিকা পাড়ুকোন, রাজা রতন সিং’এর চরিত্রে অভিনয় করেছে শহীদ কাপুর, সুলতান আলাউদ্দিন খিলজি’র চরিত্রে রয়েছে রনবীর সিং। পদ্মাবতীকে নিয়ে ছবি তৈরি করায় ক্ষুব্ধ হয় কারনি সেনা। ছবিটি মুক্তি পেলে তার ফল ভাল হবে না বলেও পরিচালককে সরাসরি হুমকি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়।