অবহেলিত কাঁকড়া ট্রেডে একজন সফল ব্যক্তিত্ব

মেধা শক্তি, কর্মদক্ষতা আর সততার সহিত যে কোন পেশাই খুলে দিতে পারে সৌভাগ্যের স্বর্ণ দূয়ার। উপকূলীয় এলাকার যে কাকঁড়া এক সময় বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেয়া হত, আজ তা বৈদেশীক মুদ্রা অর্জনে শ্রেষ্ঠ উপকরন হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত অর্থ বছরে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার কাকঁড়া রপ্তানী হয়। এই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে যার ভূমিকা ও কৃতিত্ব সীমাহীন তিনি হলেন বিশিষ্ঠ ব্যাবসায়ী ও সমাজ সেবক ও সফলকাম প্রবাদ পুরুষ গাজী আবুল হাসেম।

বাংলাদেশের কয়েক লক্ষ পরিবার চিংড়ি চাষে জিবিকা নির্বাহ করেন। চিংড়ি চাষে খুব বেশী লাভজনক না হওয়ায় বর্তমানে সেখানে নেই বিশেষ প্রক্রিয়ায় এখন চাষ হয় কাকঁড়া। সাধারনত জুন থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত কাকঁড়া চাষের মৌসুম। এ সময় ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে কাঁকড়া বিক্রয় হয়। মৌসুম বাদে দর বেড়ে গিয়ে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা বৃদ্ধি পায়। খুলনা, কক্সবাজার, চট্রগ্রাম, পটুয়াখালী, বাগেরহাট জেলায় কাঁকড়া চাষ হয় বেশী। সাদা সোনা খ্যাত চিংড়ির চেয়ে কাঁকড়া চাহিদা বেশী বহিরবিশ্বে। চীন, জাপান, তাইওয়ান, মালেশিয়া সহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানী হয় বেশী এই জলজ সম্পদ।

বাংলাদেশে কিছু ফাইভ স্টার বাদে সাধারন মানুষের মাঝে সুস্বাদু এই খাবারের চাহিদা নেই বললেই চলে। কারন এই প্রনীজ সম্পদের পুষ্টিগুন ও সুস্বাদ সম্পর্কে অনেকেই খুব বেশী অবগত নয়। তাই জলজ সম্পদকে সঠিক ভাবে মূল্যায়িত করে দেশীয় অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি বাড়ানো সম্ভব। এ প্রসঙ্গে কথা হয়, Barghedeh live and chiled food Exportrs Association এর সভাপতি আলহাজ্ব গাজী আবুল হাসেম এর সাথে। তিনি ডেইলী মেইল ২৪ কে জানান বহিবিশ্বে জনপ্রিয় এই জলজ সম্পদের চাহিদা থাকলেও বাংলাদেশের মানুষ এখনো অবহেলার চোখে দেখে এই ব্যবসাকে। এক সময় আমাকেও পরিবার থেকে উপহাস করত এই কাঁকড়া ব্যবসার কারনে । অথচ ২০১৩-২০১৪ইং অর্থ বছরে সর্বোচ্চ রপ্তানী ট্রপি (স্বর্ন) অর্জন ও মাননীয় প্রধান মন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার হাতে ট্রপি গ্রহন নি:সন্দেহে আমাদের ভাগ্যকে বদলে দেয়, যা এখন আমাদের গর্ব। আগে আমরা মাত্র ৫২ জন এক্সপোটার ছিলাম।

কিন্তু এখন সেখানে ১৭৩ জন সদস্য। সবার নিরলস চেষ্ঠায় আগামী ২০২০ অর্থ বছরে আমরা এক হাজার কোটি টাকার উপরে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারব বলে আমার বিশ্বাস। তিনি আরো বলেন, বাস্তবতার সাথে মিলরেখে কিছু নীতিমালা প্রনয়ন করা প্রয়োজন। এই ট্রেডে ব্যবসায়িক ঋন ও ইনসেনটিভ প্রদান জরুরী। তিনি বানিজ্য মন্ত্রনালয় তথা সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

রাজনীতিতে আসার ইচ্ছে আছে কিনা? জানতে চাইলে তিনি বলেন রাজনীতি নয় মানব সেবাই আমার ধর্ম। যতদিন বেঁচে থাকব নিজ সাধ্যমত মানুষের সেবা সহযোগিতা করব। ইতোমধ্যেই আমি ব্যক্তিগত উদ্দ্যগে রাস্তা, মসজিদ ও স্কুল নির্মান ও সংস্কার করেছি। দেশীয় জলজ সম্পদকে আরো বেশী কাজে লাগাতে পারলে আরো কিছু পরিবার উপকৃত হতো। সে লক্ষেই বাঁচিয়ে রাখতে চাই এ ট্রেডকে।

জলজ প্রাণী এই কাঁকড়া বানিজ্যিক ভাবে আরো বেশী সম্প্রাসারন প্রয়োজন বলে দাবী বিজ্ঞ মহলের। তাতে দেশে আসবে বৈদেশিক মুদ্রা, সসমৃদ্ধ হবে বাংলাদেশ। আর অবহেলা নয় জাতীয় আয় বাড়াতে কাঁকড়া শিল্পের প্রতি কিছু নীতির প্রতিফলন এখন ডিজিটাল বাংলাদেশের দাবী।

তাজীন মাহমুদ (তনু), নিজস্ব প্রতিনিধি