তীব্র গ্যাস সঙ্কটে রামপুরা-বনশ্রী বাসিন্দারা, জানে না তিতাস!

দীর্ঘ ৯ মাস ধরে তীব্র গ্যাস সঙ্কটের কারণে ভোগান্তিতে রয়েছেন রাজধানীর রামপুরা-বনশ্রী আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা। বিশেষ করে সকালে রান্না করার মতো গ্যাসের সরবরাহ মিলছে না। বিপাকে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোও। ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা বলছেন, একাধিকবার অভিযোগ করেও গ্যাস সমস্যার সমাধান মেলেনি। তবে যোগাযোগ করা হলে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (পেট্রোবাংলার একটি কোম্পানি) কর্মকর্তারা দায় এড়ানোর বক্তব্য দিয়েছেন। সমস্যা সম্পর্কেও জানেন না তারা।

মঙ্গলবার সকালে বনশ্রীর সি ব্লকে সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, গ্যাস আছে তবে তা রান্নার উপযোগী নয়। গ্যাসের চুলা জ্বলতে দেখা যায় মোমবাতির মতো। আধা ঘণ্টায় যে রান্না শেষ হবার কথা সে রান্না করতে সময় লাগছে দেড় থেকে ২ ঘণ্টা। কোথাও কোথাও চুলাই জ্বলছে না। সরেজমিনে বনশ্রীর এ, ডি, ই, এফ ও কে ব্লকেও ঘুরে গ্যাসের সমস্যার একই রকম তথ্য জানা গেছে।

রামপুরা কাঁচাবাজার এলাকার গৃহবধূ আলেয়া খাতুন বলেন, গত ৯ মাস ধরে এ সমস্যা। অভিযোগও করা হয়েছে তিতাস অফিসে। কিন্তু গ্যাসের সরবরাহ বাড়েনি। বনশ্রী জি ব্লকের গৃহবধূ সুবর্ণা জানান, শীতকালে গ্যাসের চাপ কম থাকে এটা মেনে নিয়েছি। তাই বলে রান্না করা যাবে না এটা তো মানা যায় না। টাকা তো ঠিকই নিচ্ছে তিতাস। কম তো নেয় না। তাহলে আমরা নির্ধারিত টাকা দিয়ে কেন কাঙ্খিত গ্যাস পাবো না? এর উত্তর কে দেবে?

বনশ্রী এলাকার একাধিক বাসিন্দা ও গৃহবধূর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৫টা থেকে সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত গ্যাসের দেখা মেলে না। গ্যাস থাকলেও সে গ্যাসের পরিমাণ পর্যাপ্ত নয়। মাঝে মধ্যে পূর্ব নির্দেশনা ছাড়া হঠাৎ গ্যাস ডাউন হয়ে যায়।

বনশ্রীর এ ব্লকের বাসিন্দা ব্যাংক কর্মকর্তা রাবেয়া সুলতানা বলেন, অনেক দিন বাসায় সকালে খেতে পারি না। রাতে তরকারি রান্না করে রাখলেও সকালে ভাতটুকুই রান্না করা যায় না গ্যাসের অভাবে। গ্যাস না থাকায় সকালে সন্তানদের বাইরের খাবার কিনে এনে খেতে দিতে হয়। গ্যাসের সরবরাহ কম থাকায় অনেক বাসায় আগুন না জ্বলায় বিক্রি বেড়েছে খাবারের হোটেল রেস্টুরেন্ট গুলোতে। সকালে ভীড় জমে খাবারের দোকান গুলোতে।

ডি ব্লকের ৪ নং সড়কের ১৫ নং বাসার কেয়ারটেকার রহমত আলী জানান, সকালে গ্যাসের সমস্যা থাকায় ভবনের অধিকাংশ ফ্ল্যাটে রান্নার কষ্ট। অনেকে আলাদা সিলিন্ডার গ্যাস কিনে ব্যবহার করছেন। অনেকে বাইরে খাচ্ছেন। এফ ব্লকের গৃহবধূ আঞ্জুমানেরর সঙ্গে কথা হয় ‘আড্ডা কাবাব ও বিরিয়ানি হাউজে’। তিনি বলেন, গ্যাস নেই, কী করবো! প্রায় সকালেই কলা-রুটি খেয়ে শিশু সন্তানকে স্কুলে নিয়ে যাই। আবার মাঝে মধ্যে হোটেলে ডিম-পরোটা খাই।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা যায়, গ্যাস ডাউন হবে এমন কোনো পূর্ব ঘোষণা কিংবা নোটিশ নেই। যোগাযোগ করা হলে, মতিঝিলের অধীনে ৭টি জোনের কর্মকর্তারা দায় এড়িয়ে যান। এ ব্যাপারে তিতাসের সাপ্লাই এফিসিয়েন্সি ইমপ্রুভমেন্ট অফ টিজিটিডিসিএল এর প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী সৈয়দ মঞ্জুর ইলাহি বলেন, আমি এ ব্যাপারে কর্তব্যরত কর্মকর্তা নই। তিনি ঢাকা উত্তর কিংবা দক্ষিণের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

মতিঝিল জোনের ম্যানেজার এরশাদ মোল্লা জানান, কাঙ্খিত পরিমাণে গ্যাস দিতে না পারায় আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। সমাধান না দিয়ে তিনি বলেন, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড ওয়েবসাইটে এ সঙ্ক্রান্ত যেকোনো তথ্য/ অভিযোগের জন্য তিতাস গ্যাস কল সেনটার নম্বর 09612316496 (সকল মোবাইল অপারেটর হতে) বা 16496 (গ্রামীণ ফোন বা বাংলালিংক) নাম্বারে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক বিপনন (দক্ষিণ) আমিনুল হক বলেন, গ্যাসের সমস্যা রাজধানীর সব জায়গাতেই। শীতকালে আরও বেশি হয়। তবে রামপুরা-বনশ্রী এলাকায় গ্যাসের তীব্র সঙ্কটের বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীকে তিনি তিতাসের পরিকল্পনা ডিভিশনে ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর অভিযোগ করার পরামর্শ দেন।