তিন মাসের পরিবর্তে ৬ মাস পেছাল ডিএনসিসি নির্বাচন

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে উপনির্বাচন ও নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচন তিন নয়, ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচন চার মাস স্থগিত করা হয়েছে।

আলাদা দুটি রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমেদের হাই কোর্ট বেঞ্চ গত ১৭ ও ১৮ জানুয়ারি এই দুই সিটি করপোরেশনের ভোট স্থগিতের আদেশ দিয়েছিল।

নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাশেম গতকাল মঙ্গলবার সাংবাদিকদের জানান, আদালতের লিখিত আদেশে ঢাকা উত্তরের নির্বাচন ছয় মাস স্থগিতের কথা বলা হয়েছে।

তিনি জানান, ঢাকা উত্তর সিটির রায়ের পর বাদীপক্ষের আইনজীবীর সার্টিফায়েড কপি পেয়েছিলেন। সেখানে কতদিনের জন্য স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে তা উল্লেখ ছিল না। এখন রায়ের ফটোকপি পাওয়া গেছে। এর মাধ্যমে ছয় মাসের স্থগিতাদেশের বিষয়টি জানা গেছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা আরও জানান, আদালতের সার্টিফায়েড কপি পাওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে। ওই কপি পাওয়ার পর কমিশন সভায় তোলা হবে। আপিলের বিষয়ে তখনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আদালতের স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে ইসি আপিল না করলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের এই নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, সামনে পাঁচ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন রয়েছে। এছাড়া আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ‘কাউন্টডাউন’ শুরু হবে। তার আগে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম হাতে নিতে হবে। গত ৩০ নভেম্বর মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুর পর ঢাকা উত্তরে মেয়র পদে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি মেয়র পদসহ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে নতুন যুক্ত হওয়া ১৮টি করে ৩৬টি সাধারণ ওয়ার্ড এবং ছয়টি করে ১২টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ভোট হওয়ার কথা ছিল। প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করলেও আদালতের আদেশে ওই নির্বাচন আটকে গেছে।