ঘুষের চুক্তি ছিল সাড়ে ৪ লাখ টাকার

ধর্মীয় উগ্রবাদ, উগ্রবাদী সংগঠন সৃষ্টি, জঙ্গি কার্যক্রমে পৃষ্ঠপোষকতাসহ স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠা লেকেহেড গ্রামার স্কুলের মালিকের সাথে সাড়ে ৪ লাখ টাকায় চুক্তি হয়েছিল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) উচ্চমান সহকারী মো. নাসির উদ্দিন ও শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোতালেব হোসেনের।

নানা অভিযোগের মুখে লেকহেড স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আবার নিজেদের পক্ষে আনতে এ ঘুষের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। মঙ্গলবার সকালে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন।

এ তিনজনের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে মামলা হয়েছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মোতালেব ও নাসিরের বিরুদ্ধে লেকহেড স্কুল খুলে দেওয়ার তদবিরে ঘুষ লেনদেন হয়েছে। এছাড়া ঘুষ প্রদানকারী লেকহেড গ্রামার স্কুলের মালিক খালেদ হাসান মতিনের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।

গত রোববার (২১ জানুয়ারি) গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগের একটি দল রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে এক লাখ ত্রিশ হাজার টাকাসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) উচ্চমান সহকারী মো. নাসিরউদ্দিনকে গ্রেফতার করে। পরে তার সঙ্গে যোগাযোগের সূত্র ধরে শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মো. মোতালেব হোসেন ও লেকহেড গ্রামার স্কুলের মালিক মো. খালেদ হাসান মতিনকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।

তবে এর আগে শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোতালেব হোসেনকে শনিবার (২০ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় মোহাম্মদপুরের বসিলা সড়ক থেকে ‘অপহরণ’ করা হয় বলে অভিযোগ করে তার পরিবার। এ বিষয়ে হাজারীবাগ থানায় একটি জিডিও করা হয়।

এছাড়া তারও দুইদিন আগে বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে বনানী থেকে নাসিরউদ্দিনকে ‘অপহরণ’ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায়ও রাজধানীর বনানী থানায় আরও একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন নাসিরের শ্বশুর আব্দুল মান্নান।