সম্পর্কের দ্বন্দ্বে আলামিনকে ছুরি মেরেছিলেন মিতা!

রাজধানীতে তরুণীর ছুরিকাঘাতে আলামিন হোসেন (২৫) নামে এক যুবক আহত হয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জগন্নাথ হলের পেছনের গেটের বিপরীতে সাবেক প্রেমিক আল-আমিন হোসেনকে (২৫) ছুরিকাঘাত করেছিলেন ইডেন কলেজছাত্রী লাভলী ইয়াসমিন মিতা।

আলামিন চকবাজার ইসলামবাগ এলাকায় থেকে প্লাস্টিকের ব্যবসা করেন। এছাড়া তার মিতা নামে এক মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। কিছু দিন ধরে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিলো। বুধবার সন্ধায় মেয়েটি ঢাবির জগন্নাথ হলের কাছে চলন্ত রিক্সায় থাকা ছেলেটিকে ছুরিকাঘাত করে। পালানোর সময় ঢাবির ফার্সি বিভাগের শিক্ষার্থী বায়জীদ তাকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে।

এ ঘটনায় মিতাকে আসামি করে মামলা করেছেন আল আমিনের ভাই আওলাদ হোসেন। পরে মিতাকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। ঘটনার দিন বুধবারই তাকে আটক করা হয়। লাভলীর জামিন আবেদনের ওপর শুনানি হবে আগামীকাল ২২ জানুয়ারি।

ছুরি মেরে পালিয়ে যেতে চাইলে অন্য লোকজন মিতাকে ধরে ফেলে পুলিশে দেয়। লাভলী ওই সময় আল-আমিনকে ছিনতাইকারী বলে দাবি করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিতা দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে আল-আমিন তাকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। ব্রেকআপ হয়ে যাওয়ার পরও সম্পর্ক রাখতে চেষ্টা করছিলো আল আমিন। এতে অতিষ্ঠ হয়েই তাকে ডেকে নিয়ে ছুরিকাঘাত করেছেন।

আল-আমিন চকবাজার ইসলামবাগ এলাকায় থাকেন। একপর্যায়ে মিতা-আল-আমিন প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। চার বছরের সম্পর্ক তাদের। তবে বেশ কিছুদিন ধরে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। ছুরিকাঘাতের পর আল আমিন অজ্ঞান ছিলেন ১৫ ঘণ্টারও বেশি। ঘটনার পর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আল আমিন গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনার দিন বুধবার বিকালে ফোনে তাকে ফুলার রোডে যেতে বলেন মিতা। আল আমিন দাবি করেন, সেখানে যাওয়ার পর দেখেন মিতার পাশে দাঁড়ানো চার-পাঁচ তরুণ। এসময় ওই ছেলেরা মারধর করে তাকে। রক্ষা পেতে আপ্রাণ চেষ্টা করেন তিনি। পাশে দাঁড়িয়ে তখনই তাকে ছুরিকাঘাত করেন মিতা। নিজের ভ্যানেটি ব্যাগ থেকে ছুরি বের করে পরপর দুটি আঘাত করেন তার পিঠে ও হাতের নিচে।

মিতার বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর থানার রামচন্দ্রপুর বিশ্বাসপাড়ায়। পুরান ঢাকার পশ্চিম ইসলামবাগের মৃত আলেক ব্যাপারীর ছেলে আল আমিন। আল আমিন গত সাত বছর থেকেই ভাঙারির ব্যবসা করছেন। বিকালে আড্ডা দিতেন আজিমপুর এলাকায়। আজিমপুরেই থাকেন লাভলী ইয়াসমিন মিতা। সেখানেই পরিচয়। তারপর ফোনে কথা হতো। দেখা হতো। এভাবেই একসময়ে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে যান তারা। আল আমিনের পরিবার বিষয়টি জানতো। তবে দীর্ঘদিন ধরেই সম্পর্ক খারাপ যাচ্ছিলো তাদের। আল আমিনকে এড়িয়ে যেতেন মিতা। এটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না তিনি।