ফরিদপুরের সালথায় আ’লীগের দু’গ্রুপের পৃথক সংঘর্ষে আহত-৮০

ফরিদপুরের সালথায় আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের পৃথক সংঘর্র্ষে ৭০ ব্যক্তি আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শনিবার সকালে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মাঝারদিয়া গ্রামে ও শুক্রবার রাতে রামকান্তপুর ইউনিয়নের রামকান্তপুর বাজারে পৃথকভাবে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের নগরকান্দা উপজেলা হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

প্রত্যাক্ষদর্শীরা ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মাঝারদিয়া গ্রামে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হামিদ মাতুব্বরের সাথে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেলিম মোল্যার গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধ চলে আসছে। শুক্রবার রাতে দু’গ্রুপের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে উভয় গ্রুপই দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংবাদ পেয়ে সালথা থানা পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরই জেরধরে শনিবার সকাল সাড়ে ১০ টারদিকে উভয় গ্রুপের মধ্যে ফের সংঘর্ষ বাঁধে। প্রায় দুই ঘন্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে উভয় গ্রুপের অন্তত ৬০ জন ব্যক্তি আহত হয়। সংঘর্ষের খবর পেয়ে র‌্যাব ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আহতদের নগরকান্দা উপজেলা হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অপরদিকে শুক্রবার রাতে উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের রামকান্তপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। উপজেলা কৃষকলীগের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন ও রামকান্তপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক কাদের মাতুব্বরের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষে উভয় গ্রুপের প্রায় ২০ ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের নগরকান্দা উপজেলা হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় সংঘর্ষকারীরা রামকান্তপুর বাজারের উভয় গ্রুপের প্রায় ১৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করে।

সালথা থানা অফিসার ইনচার্জ দেলোয়ার হোসেন খান বলেন, সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৭ টি টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকার পরিবেশ শান্ত রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি