মুন সিনেমা হলের ওপর ৯৯ কোটি টাকার অর্থদণ্ড!

ঢাকার ওয়াইজঘাট এলাকার মুন সিনেমা হলের জমি ও স্থাপনার দাম ৯৯ কোটি টাকার ওপরে বলে এই অর্থ হলের মালিককে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। তিন কিস্তিতে এই অর্থ পরিশোধ করতে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে মুন সিনেমা হলের মালিক ইতালিয়ান মার্বেলস ওয়ার্কস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাকসুদুল আলমের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তৌফিক নেওয়াজ। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আদালতের আদেশ অনুসারে, মুন সিনেমা হলের মালিককে প্রথম দুই মাসের মধ্যে ২৫ কোটি, দ্বিতীয় দুই মাসের মধ্যে ২৫ কোটি এবং ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে বাকি অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

মুন সিনেমা হল মাকসুদুল আলমের মালিকানায় থাকলেও মুক্তিযুদ্ধের সময় সম্পত্তিটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে মালিকানা দাবি করে মাকসুদুল আলম আদালতের দ্বারস্থ হন। হাইকোর্টে রায় পক্ষে যাওয়ার পর আপিল বিভাগ ২০১০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করে তা বহাল রাখেন। একইসঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে মুন সিনেমা হল বাংলাদেশ ইতালিয়ান মার্বেলস ওয়ার্কস লিমিটেডকে ফেরত দেওয়ার জন্য মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টসহ সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দেন।

প্রায় ছয় বছর আগে পঞ্চম সংশোধনী বাতিল সংক্রান্ত আপিল বিভাগের দেওয়া রায়ে ৯০ দিনের মধ্যে মুন সিনেমা হল মূল মালিককে ফেরতের নির্দেশ দেন। কিন্তু মাকসুদুল আলম তার জমি না পেয়ে ২০১২ সালে আপিল বিভাগে আবেদন করেন। এ আবেদনের শুনানি শেষে আদালত গত বছরের ১৫ জানুয়ারি অ্যাটর্নি জেনারেলকে একজন অভিজ্ঞ, নিরপেক্ষ প্রকৌশলী দিয়ে মুন সিনেমা হলের জমি, স্থাপনার মূল্য নির্ধারণ করে ছয় সপ্তাহের মধ্যে তা আদালতে প্রতিবেদন আকারে দাখিল করতে নির্দেশ দেন।

তখন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, পঞ্চম সংশোধনী মামলার রায়ে বলা হয়েছে মুন সিনেমা হল ছেড়ে দেওয়া হোক। পরে সরকারের পক্ষ থেকে আমরা রিভিউ করলাম। তখন আবারও বলা হলো, এই সিনেমা হল ছেড়ে দেওয়া হোক অথবা উভয়পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হোক।

তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে মুন সিনেমা হলটি মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ২০০১ সালে প্রতীকী মূল্য ১ টাকা দরে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট তা হস্তান্তর করে ডেভেলপারদের কাছে। ডেভেলপাররা মূল সিনেমা হলটি ভেঙে বহুতল ভবন নির্মাণ করে এবং ডেভেলপার কোম্পানি তাদের অংশটুকু বর্তমান দোকান মালিকদের কাছে বিক্রি করে দেয়।

এ অবস্থায় আমি আদালতের কাছে বলেছি, মুন সিনেমা হল আগের অবস্থায় ফেরত দেওয়ার কোনো উপায় নেই। এখন মুন সিনেমা হলের জমির মূল্য ও মুন সিনেমা হলের মূল স্ট্রাকচারের (কাঠামো) মূল্য ধরে এর  মালিক ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন। এজন্য আদালত একটি নির্দেশনা দিয়েছেন। ওই নির্দেশনার পর গঠিত কমিটি মুন সিনেমার হলের জমি ও স্থাপনার মূল্য নির্ধারণ করে আদালতে প্রতিবেদন আকারে জমা দেয়। এর প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার এ আদেশ দিলেন আপিল বিভাগ।