ভ্যাট চেকার বন্ধ না করার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি

মোবাইল অ্যাপ শুরু থেকেই শুরু হয়েছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাথে ভ্যাট চেকারের একসাথে পথচলা। তরুণদের “ভ্যাট হিরো” উপাধি দিয়ে তারা উৎসাহিত করেছিলো ভ্যাট ফাঁকি রোধে এগিয়ে আসতে। ভ্যাট সচেতন তরুণ প্রজন্ম তৈরিতে সহায়তা করছিলো এই অ্যাপ। ২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত “ভ্যাট চেকার” অ্যাপ বাঁচিয়ে দিয়েছে কয়েকশ কোটি টাকার রাজস্ব।

এতকিছু স্বত্বেও কিন্তু বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ভ্যাট চেকার। জাতীয় পুরষ্কার পাওয়া এই অ্যাপ বন্ধ না করার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি লিখেছেন অ্যাপটির নির্মাতা যুবায়ের হসেইন। চিঠিতে তিনি লিখেছেন,

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,

খুব কষ্ট নিয়ে আপনার কাছে খোলা চিঠি লিখছি।

যে ডিজিটাল বাংলাদেশের ঘোষণা আপনি দিয়েছেন, সেই স্বপ্ন লালন করছি আমরা তরুণরা। একাগ্র চিত্তে কাজ করে চলেছি দেশের সমস্যা সমাধানে।

একটি গল্প বলি আপনাকে। এ গল্প একজন উদ্যোক্তার মাঝপথে এক স্বপ্ন ভাঙ্গার গল্প।

রাজস্ব বাঁচানোর স্বপ্ন নিয়ে আমরা শুরু করেছিলাম “ভ্যাট চেকার” নামে এক মোবাইল অ্যাপের যাত্রা। খুব অল্পদিনে হাজারো তরুণের চেষ্টায় ভ্যাট চেকার এর মাধ্যমে চলতে থাকে ভ্যাট ফাঁকি ধরার অভিযান।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান স্যার আমাদেরকে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা দেন, পাশে দাঁড়ান। তার অনুপ্রেরণা আর সহযোগিতায় লাখো মানুষ যুক্ত হয়েছিল “ভ্যাট চেকার” এর সাথে। গত দেড় বছরে এই অ্যাপ বাঁচিয়ে দিয়েছে দেশের কয়েকশ কোটি টাকা। কিন্তু বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ভ্যাট চেকারকে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এ বছর জাতীয় পুরষ্কার দেওয়া হয়েছে “ভ্যাট চেকার” কে। এই উদ্যোগ ছিনিয়ে এনেছে দক্ষিন এশিয়ার সেরা আইটি সম্মাননা ( mBillionth Award South ASIA)।

World Summit Award 2017 তে বাংলাদেশের সেরা উদ্যোগ হিসাবে মনোনয়ন পেয়েছিলো ভ্যাট চেকার। এ বছর মার্চে ইউরোপের ভিয়েনায় আয়োজিত WSA Global Congress এ বিশ্বের ১৪৮ দেশের সামনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার কথা ছিলো আমাদের। আমন্ত্রন জানিয়েছে ওয়ার্ল্ড সামিট। আমরা আসলেই জানি না কি জবাব দিবো ভিয়েনাতে গিয়ে।

দুই বছর ধরে রাজস্ব বাঁচাতে বিনা স্বার্থে যে অ্যাপ দেশকে সহযোগীতা করেছে সেটা বন্ধ করে দেওয়া হলো। হয়তো মাননীয় চেয়ারম্যান মহোদয়ের পদ পরিবর্তন না হলে এমনটা হতো না।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার নিকট আমার অনুরোধ,
আপনার নিজ হস্তক্ষেপে “ভ্যাট চেকারকে” পুনরায় সচল করে জাতীয়করণ করে নেন। আমি সত্যিই ভিয়েনাতে গিয়ে বলতে পারবো না পদ পরিবর্তন হলে স্বপ্নগুলোও ভেঙ্গে যায় আমাদের দেশে। আমার ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।

ইতি,
মোঃ জুবায়ের হোসেন
একজন তরুণ উদ্যোক্তা।