‘বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে একটু বেশি মাত্রায় মারামারি হয়েছে’

নারায়ণগঞ্জ শহরে হকার উচ্ছেদ নিয়ে মেয়র আইভী ও শামীম ওসমানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাকে বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে একটু বেশি মাত্রায় মারামারি বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন। বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

গতকাল মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ শহরে হকারদের ঠেকাতে রাস্তায় নামার পর মেয়র আইভী ও শামীম ওসমানের সমর্থক হকারদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী আহত হন। এ ঘটনার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা দু’জন পাশাপাশি বসা। একজন সুদর্শন পুরুষ, আরেকজন সুন্দরী মহিলা। আপনারা যদি মারামারি করেন তবে আমি কী করতে পারি।’

তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের কোনো বিষয়ই না, আমার যতদূর মনে হয় তাদের ব্যক্তিগত বিষয় থেকে এ সমস্যাটা ঘটেছে। হকার উনি সরাবেন, ইনি নির্বাচিত মেয়র। আবার যিনি বাধা দিতেছেন উনিও ওই অঞ্চলেরই নির্বাচিত প্রতিনিধি। আমাদের কাছে জিনিসটা আসলে…জবর দখল করে তো কোনো কাজ করা ঠিক না।’

‘হকাররা যে কাজটা করছে, তাদের জন্য তো ফুটপাত করা হয়নি। ফুটপাত করা হয়েছে নাগরিকদের চলাচলের সুবিধার জন্য। চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে যদি হকারা ওখানে বসে আর মেয়র যদি বাধা দেয়, তবে মেয়র তো আইনগতভাবে সঠিক জায়গায় আছে। কাজেই এ কথাটা তো পাবলিকলি অ্যানাউন্স করতে পারছি না, কিছু বলতেও পারছি না। যতক্ষণ পর্যন্ত না আমি বুঝতে পারি কি ঘটনা ঘটেছিল।’

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘আরেকটা কথা আছে হকাররা যদি ওখানে ব্যবসা করে থাকে, তবে তখন তাদের কি কারণে বাধা দেয়া হয়নি। তাদের যদি স্ট্যাবলিস্ট কিছু থেকে থাকে, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে চট করে কিছু করাও তো অমানবিক। কাজেই বিষয়টা সম্পর্কে আপাতত আমার কোনো কেমেন্ট নেই, আমি আগে বিষয়টি বুঝে নেই। তারপর কমেন্ট করতে পারব।’

‘ঘটনাটা আপনাদের কাছে যেমন অপ্রত্যাশিত, আমার কাছে অপ্রত্যাশিত। আমরা যদি আগে বুঝতাম তবে হস্তক্ষেপ করতাম।’ দু’জনই আওয়ামী লীগের। দু’জনের মধ্যে দ্বন্দ্বও দীর্ঘদিনের। সামনে যাতে না ঘটে সেজন্য কি আপনারা হস্তক্ষেপ করবেন- এ বিষয়ে খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘আপনারা দু’জন যদি মারামারি করতে চান, আমাদের কাছে যদি বিচার না আসে। আমরা অ্যাডভান্স গিয়ে কীভাবে করতে পারি। দু’জনই নির্বাচিত প্রতিনিধি, আমাদের দলেরই। বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে মারামারি হবে, এটা একটু বেশি মাত্রায় হয়ে গেছে।’

‘ভবিষ্যতের যদি সরকারের ইন্টারভেনশর দরকার হয় আমরা অবশ্যই ইন্টারভেনশন করব। আমার মনে হয় বিষয়টি একেবারেই ব্যক্তিগত। তবুও আমরা রিপোর্ট চাচ্ছি- কী হয়েছে? যদি পয়েন্ট অব কনফ্লিক্ট থাকে সেটা আমরা অবশ্যই মীমাংসা করব, এরমধ্যে আমরা ইনভলব হব। আমরা অলরেডি ডিসি-এসপির কাছ থেকে রিপোর্ট চেয়েছি। ঘটনাটা কী, জেনে দুই পক্ষের…আমি তো করব না মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেই করবেন দুই পক্ষরে ডেকে নিয়ে…। আর যদি আমাদের দায়িত্ব দেন আমিও কথাবার্তা বলতে পারব। এছাড়া আমাদের দলীয় যে জেনারেল সেক্রেটারি আছে উনিও করতে পারেন।’

‘বিষয়টি এখন মুখ ঘুরিয়ে রাখার বিষয় নয়, বিষয়টি রাস্তায় এসে গেছে। শুধু রাস্তায় নয় ইটপাটকেলের মধ্যে চলে এসেছে।’ এটা তো সরকারের ভাবমূর্তিরও বিষয়- এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এটা সরকারের ভাবমূর্তির মধ্যে একেবারে ইনভল নয়, একেবারেই নয়।

এটা দু’জনের ব্যক্তিগত দ্বিমতের বহিঃপ্রকাশ। যদি আমাদের কোন ডিসিশনের কারণে মেয়র ও এমপি মহোদয় বিক্ষুব্ধ হতেন তবে তবে আমরা ইনভলব হতাম। এখন হাত থাকতে মুখে কী এটা এ পর্যায়ে যাবে আমরা বুঝিনি। মুখে মুখে ছিল এখন হাতে হাতে চলে এসেছে।’