লটারিতে ফ্ল্যাটের মালিক হলেন ২৬২১ জন

উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের দুই হাজার ৬২১ জন বরাদ্দ গ্রহীতাকে লটারির মাধ্যমে ফ্ল্যাটের আইডি নম্বর প্রদান করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। রোববার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রকল্পের ‘এ’ ব্লকে যেসব গ্রহীতা ৪র্থ কিস্তি পর্যন্ত পরিশোধ করেছেন তাদের মধ্যে ডিজিটাল পদ্ধতিতে লটারির মাধ্যমে ফ্ল্যাটের আইডি নম্বর প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের ‘এ’ ব্লকে ১৮নং সেক্টরে ১৬৫৪ বর্গফুট আয়তনের মোট ফ্ল্যাট ছয় হাজার ৬৩৬টির মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে ফ্ল্যাট বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। চার কিস্তি টাকা পরিশোধ করেছেন ১৮৩২ জন। এর মধ্যে হস্তান্তর উপযোগী ৮৪০টি ফ্ল্যাটের মধ্যে ৩টি ফ্ল্যাট আইডি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এসএ গেমসে স্বর্ণজয়ী তিনজনকে দেয়া হয়েছে। ৮৩৭টি ফ্ল্যাটের আইডি গত ১০ সেপ্টেম্বর ১ম লটারির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।

প্রথমবারের মতো স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের মাধ্যমে ২৫ বছর মেয়াদি ৮ দশমিক ৫ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে ফ্ল্যাটের মূল্য পরিশোধ করার সুযোগ পাবেন গ্রহীতারা। প্রতিটি ফ্ল্যাটে ৩টি বেড রুম, একটি লিভিং রুম, একটি ডাইনিং রুম, একটি ফ্যামিলি লিভিং, ৪টি বারান্দা, ৪টি টয়লেট ও একটি কিচেন রয়েছে। এছাড়া ২০ জন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ২টি উন্নতমানের লিফট রয়েছে। ভবনে ১টি প্রধান সিঁড়ি ও ২টি অগ্নিনির্বাপক সিঁড়ি রয়েছে।

প্রকল্পের ‘এ’ ব্লকের প্রতিটি ভবনে একটি বেজমেন্ট, গ্রাউন্ড ফ্লোর ও ১৪টি ফ্লোর রয়েছে। ১৪টি ফ্লোরের প্রতিটিতে নেট ১২৭৬ বর্গফুটের (গ্রস ১৬৫৪ বর্গফুট) ৬টি ফ্ল্যাট রয়েছে। প্রতিটি ভবনে ৮৪টি ফ্ল্যাট রয়েছে। ফ্ল্যাটের প্রতি বর্গফুটের দাম ধরা হয়েছে ৪৮০০ টাকা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে রাজউক চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান বলেন, এক সময় মানুষ শঙ্কায় ছিল কোনোদিন তারা ফ্ল্যাট পাবে কি-না। সেই শঙ্কা এখন কেটে গেছে। তিনি বলেন, এবার যারা ফ্ল্যাট পাবেন না তাদের ভয়ের কিছু নেই। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে যারা চার কিস্তির টাকা পরিশোধ করবেন তারা মার্চের প্রথম সপ্তহে ফ্ল্যাট বুঝে পাবেন।

রহমান বলেন, উত্তরা অ্যাপার্টমেন্টের সব রাস্তার টেন্ডার হয়ে গেছে। শিগগিরই রাস্তা নির্মাণ হয়ে যাবে। এছাড়া এ প্রকল্পের যোগাযোগ সহজ করার জন্য উত্তরা জসীমউদ্দীন সড়কের সঙ্গে সংযোগ দেয়া হবে। সেই সঙ্গে মিরপুরের সঙ্গেও যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি বলেন, পূর্বাচল প্রকল্পের ভেতরে মেট্রোরেলের কাজ চলছে। যা উত্তরা প্রকল্পের মধ্য দিয়ে যাবে। এখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় আর কী কী দরকার এ বিষয়ে ফ্ল্যাটের মালিকদের জানানোর অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি দবিরুল ইসলাম, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, সংসদ সদস্য একেএম ফজলুল হক, নূর ই হাসনা লিলি প্রমুখ।