ফেঁসে যেতে পারেন বিমান শ্রমিক লীগ নেতারা

‘অত্যাবশ্যকীয় সেবা (এসেনশিয়াল সার্ভিস)’ চলাকালে কাজ বন্ধ রেখে আন্দোলন ও সমাবেশ করার অভিযোগে ফেঁসে যেতে পারেন বিমান শ্রমিক লীগ-সিবিএ নেতারা।

‘অত্যাবশ্যকীয় সেবা’ ভঙ্গ করে ৪ জানুয়ারি বিমানের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধান কার্যালয় বলাকায় ক্যাজুয়াল (চুক্তিভিত্তিক) শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ী করার দাবিতে আন্দোলন করা হয়। এ বিষয়ে অন্দোলনকারী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় ওইদিনই একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইউসুফ হোসেন জানান, বিমান কর্তৃপক্ষ বিমান শ্রমিক লীগ-সিবিএকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কেক কাটার অনুমতি দেয়। যদিও তারা কেক কাটার অনুষ্ঠান শেষে শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় নেতার উপস্থিতিতে তাদের কিছু দাবির কথা বলেন। তিনি বলেন, এটি বিমানের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এটি যেহেতু ক্রিমিনাল অফেন্স না সেহেতু বিষয়টি বিমানই দেখবে।

বিমানের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাগো নিউজকে বলেন, ঘটনার দিন যেসব শ্রমিক গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং সেবা বন্ধ করে বলাকায় গিয়ে আন্দোলন করেছে ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এতে এয়ারপোর্ট সার্ভিসসহ বিভিন্ন শাখার ক্যাজুয়েল বা ‘সি’ নম্বরধারী চার শতাধিক শ্রমিকের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এএম মোসাদ্দিক আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘অত্যাবশ্যকীয় সেবা (এসেনশিয়াল সার্ভিস)’ চলাকালে কাজ বন্ধ রেখে আন্দোলন ও সমাবেশ করার অনুমতি দেয়া হয়নি। কেক কাটার অনুমতি দেয়া হয়েছিল শর্ত সাপেক্ষে। যেহেতু তারা শর্ত ভঙ্গ করে আন্দোলন করেছে, বিমান কর্তৃপক্ষ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবে। এতে কোন প্রকার ছাড় দেয়া হবে না।

উল্লেখ্য, ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিমান কর্তৃপক্ষ ১০ দিনের চুক্তিবদ্ধ ‘ডি’ এবং ‘আর’ নম্বরধারী ক্যাজুয়েল শ্রমিকদের ‘সি’ নম্বরে উন্নীত করার যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে রাখে।বিতর্কিত ও অত্যবশ্যকীয় সেবা ভঙ্গ করে ক্যাজুয়েল শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে ১০ দিনের চুক্তিবদ্ধ ‘ডি’ এবং ‘আর’ নম্বরধারী ক্যাজুয়েল শ্রমিকদের ‘সি’ নম্বরে উন্নীত করার যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়।