এ বছর রোহিঙ্গা শিবিরে ৫০ হাজার শিশু জন্ম নেবে

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গণহত্যা ও নির্যাতনের মুখে পালিয়ে এসে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলোতে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা নারীরা এ বছর অর্ধ লাখ শিশুর জন্ম দেবে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন। এসব নবজাতক নানা রোগে আক্রান্ত হতে পারে বলেও সংস্থাটির প্রকাশিত প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। আশ্রয় নেওয়া গর্ভবতী নারীদের ওপর পর্যবেক্ষণ শেষে শুক্রবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে শিশুদের নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থাটি।

সংস্থাটির তথ্যমতে, ২০১৮ সালের মধ্যে ক্যাম্পেই রোহিঙ্গা নারীরা অন্তত অর্ধ লাখ সন্তান জন্ম দেবে। ওই ৫০ হাজার হিসেবে বছরের প্রতি দিন অন্তত ১৩০ রোহিঙ্গা শিশু জন্ম নেবে। এরই মধ্যে ক্যাম্পের বহু শিশু নানা রোগে ভুগছে। প্রতিনিয়ত জন্মাচ্ছে নতুন শিশু। এসব শিশুর অনেকেই পাঁচ বছর বয়সের আগেই মারাও যেতে পারে।

গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের রাখাইনে জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। গণহত্যা, ঘরবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়া, জীবন্ত পুড়িয়ে ফেলা, নারীদের ধর্ষণসহ ভয়াবহ সহিংসতার শিকার হয় রোহিঙ্গারা। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৬০ ভাগই শিশু। এর মধ্যে আড়াই হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা শিশু ডিপথেরিয়ায় আক্রান্ত।

সেফ দ্যা চিলড্রেনের মিডিয়া ম্যানেজার ইভান শারম্যান বলেন, ‘বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে ২০১৮ সালের মধ্যে ৪৮ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা শিশু জন্ম নেবে, এমনটা ধারণা করছি আমরা। এসব রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মানুষ এমনিতেই গাদাগাদি করে থাকছে।’

সেভ দ্য চিলড্রেনের আশঙ্কা, এই অবস্থায় যেসব শিশু জন্ম নেবে তাদের অনেকেই পাঁচ বছর বয়সের আগেই মারা যেতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়, জন্মের পর থেকেই এসব ক্যাম্পে শিশুরা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকবে। পুষ্টিকর খাবারের অভাব এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে ডায়রিয়া-কলেরার মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার যথেষ্ট শঙ্কা রয়েছে।

ইভান শারম্যান আরো বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ে আমরা সবচেয়ে বেশি চিন্তিত। কেননা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ একইসঙ্গে পুষ্টিকর খাবারের অভাব এবং কলেরা-ডায়রিয়ার মতো রোগের প্রকোপ এখানে বেশি। যা নবজাতকের জন্য ক্ষতিকর।’