‘পদ্মাবতী’ ছবির নাম পালটে এবার হবে ‘পদ্মাবৎ’!

ভারতীয় ছবির ইতিহাসে এত বড় দুর্দিন অন্য কোনও ছবিকে পেরতে হয়েছে কি না, জানা নেই! হয়তো বা ভারতীয় ছবির ইতিহাসে অন্যতম ছবি যাকে মাথা নুইয়ে অনেকটাই মান-ইজ্জত খুইয়ে সেন্সর ছাড়পত্র দিল।

তা-ও এমন এক সময়ে, যখন সেন্সর বোর্ডের পদে যিনি আছেন তাঁর নাম প্রসূন যোশী, পহলাজ নিহালনি নয়।

তিন দিন আগে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল সেন্সর বোর্ডে ছবিটি রিভিউয়ের জন্য। তাঁর মধ্যে বরেণ্য ইতিহাসবিদও ছিলেন দু’জন।

কিন্তু, ছবি দেখার পর বিশেষ বিশেষ অংশ বাদ দেওয়ার পক্ষে রায় দেন তাঁরা। প্রথমত, ছবির নাম ‘পদ্মাবতী’ নয়, রাখতে হবে ‘পদ্মাবৎ’ কারণ, মূল কাহিনির নামই তাই।

১৫৪০ খ্রিস্টাব্দে সুফি কবি মালিক মহম্মদ জ্যায়সি বিরচিত ‘পদ্মাবৎ’ কাব্যের উপরেই এই কাহিনি আধারিত। এই কাহিনি রূপকধর্মী। এতে সুফি ও নাথপন্থার মিলনের ফলে জাত এক সমন্বয়বাদী ধর্মের কথা বলা হয়েছে রানি পদ্মাবতীর রূপকের অন্তরালে । এই প্রাসঙ্গিকতা থাকলে এড়ানো যাবে ঐতিহাসিক নারীচরিত্রের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা।

দ্বিতীয়ত, যে অংশে জৌহর প্রথার উপর অতিরিক্ত জোর দেওয়া হয়েছে, সেই অংশটিও বাদ দিতে হবে। রাজপুত সমাজে জৌহর সর্বজনীন প্রথা ছিল কি না, তার কোনও ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই।

কাটাছেঁড়া করতে হবে ‘ঝুমর’ গানটিও। বিশেষ দৃশ্যপট বাদ দিয়ে নতুন করে এডিট করতে হবে। উল্লেখ করা হয়েছে শটগুলোও।

কিন্তু সবকিছুর পরে A নয়, U/A সার্টিফিকেশন পাচ্ছে ‘পদ্মাবতী’। এটা ভাল খবর না খারাপ, তা নিয়ে এখনও মন্তব্য করতে রাজি হননি সঞ্জয়লীলা ভংশালি।