‘খালেদার বিরুদ্ধে জাল নথি ও মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছে পাঁচ সাক্ষী’

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী বলেছেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় জাল দলিল তৈরি করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হারুন-অর-রশিদ। আর এই জাল নথির সপক্ষে আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তাসহ পাঁচ সাক্ষী।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে ষষ্ঠ দিনের মতো যুক্তিতর্ক শুনানি উপস্থাপনকালে গতকাল রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে এ জে মোহাম্মদ আলী এ কথা বলেন।

বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে বিএনপি চেয়ারপারসন রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ আদালতে হাজির হন। পরে ১১টা ৪০ মিনিটে তার পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। বিএনপি চেয়ারপারসন বিশেষ আদালতে হাজিরা শেষে বাসায় ফেরার পথে বিকাল সোয়া ৩টার দিকে হাই কোর্ট এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতা-কর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালতে হাজিরা শেষে গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় ফেরার পথে অন্য দিনের মতো গতকাল খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী যোগ দেন। গাড়িবহর হাই কোর্ট মাজার গেট অতিক্রম করলে পেছন থেকে বিএনপি নেতা-কর্মীদের ধাওয়া করে পুলিশ। এ সময় নেতা-কর্মীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এর আগে সকালে বিএনপি চেয়ারপারসনের হাজিরাকে কেন্দ্র করে হাই কোর্টের মাজার গেট এলাকা থেকে বারাকাত আলম ও রনি নামে বিএনপির দুই কর্মীসহ বেশ কয়েকজনকে পুলিশ আটক করেছে অভিযোগ দলটির।

এদিকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে এ জে মোহাম্মদ আলী এ মামলার এজাহারের তারিখ, অনুসন্ধানের তারিখ ও অভিযোগপত্র দেওয়ার সময় উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আইনের বিধান অনুযায়ী ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্তকাজ শেষ করার কথা। অথচ ৩৯৫ কার্যদিবস সময় নেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে জাল দলিল তৈরি করা হয়েছে।

এছাড়া রুলস অব বিজনেস, সচিবালয় নির্দেশমালা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কার্যবিবরণীর বিভিন্ন ধারা তুলে ধরেন সাবেক এই অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি বলেন, এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী সাবেক মুখ্যসচিব কামালউদ্দিন সিদ্দিকীর ব্যক্তিগত সচিব সৈয়দ জগলুল পাশার এতিম তহবিলসংক্রান্ত নথি দেখার কোনো এখতিয়ারই ছিল না।

তিনি আরও বলেন, কুয়েতের আমিরের দেওয়া ব্যক্তিগত ফান্ডকে সরকারি ফান্ড বানানোর জন্য জাল নথি তৈরি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নথি জব্দ করতে হলে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুমতি নিতে হয়। অথচ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই নথি জব্দের সময় সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তার অনুমতি নেওয়া হয়নি। তার কারণ জাল নথি তৈরি করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তাসহ কয়েকজন সাক্ষী মিলে এই জাল নথি তৈরি করেছেন। সাদা কাগজের ওপর হাতে লেখা এসব নথি কেন আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে? এ সময় মামলার সাক্ষী ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তৎকালীন হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মাজেদ আলীর জবানবন্দি ও জেরা পড়ে শোনান অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী।

তিনি বলেন, জেরার জবাবে মাজেদ আলী স্বীকার করেছেন, এতিম তহবিলসংক্রান্ত নথি কে ঘষামাজা করেছেন, তা তিনি বলতে পারবেন না। মাজেদ আলী নিজেও কোনো নথি তৈরি করেননি। তাহলে কেন এমন সাক্ষীকে আদালতে উপস্থাপন করা হলো? এরপর মামলার সাক্ষী সাবেক মুখ্যসচিব আসামি কামাল উদ্দিন সিদ্দিকীর জবানবন্দি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক কর্মকর্তা যুগ্ম-সচিব তৌহিদুর রহমান খানের জবানবন্দি ও জেরা পড়ে শোনান এ জে মোহাম্মদ আলী।

এর আগে এই মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে আরও দুজন আইনজীবী তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন। তৃতীয় আইনজীবী হিসেবে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করছেন। সর্বপ্রথম দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন। একই আদালতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুদকের করা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার যুক্তিতর্ক শুনানির দিনও ধার্য রয়েছে।

অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়াও আরও চারজন আসামি রয়েছেন। আজও এ জে মোহাম্মদ আলীই বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন।