গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে হলে বোর্ডের অনুমতি নিতে হবে!

বছরের প্রথম দিন থেকেই যেন রণমূর্তিতে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। প্রথমদিনেই সাব্বির রহমান ও তামিম ইকবালকে বড় মাপের শাস্তি দিয়ে তেড়েফুঁড়ে ‘ব্যাট’ করার চেষ্টায় সংস্থাটি। এর পরপরই অনেকটা নাটকীয়ভাবে গণমাধ্যমের সঙ্গে বোর্ড সংশ্লিষ্টদের কথা বলার ওপর পুরনো ‘জরুরি অবস্থা’র কথা মনে করিয়ে দিল বোর্ড।  

এ যেন নতুন বছরের ‘শুভেচ্ছা’। নতুন বছরের দ্বিতীয় দিন (মঙ্গলবার) একাডেমি মাঠে অনুশীলনে নামার আগে ক্রিকেটারদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে একটি চিঠি।  শুধু ক্রিকেটারই নয়, নির্বাচক কমিটি, কোচ; সর্বোপরি টিম ম্যানেজমেন্টকে পাঠানো হয়েছে ‘রিমাইন্ডার’।

চিঠিতে বলা হয়েছে, গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে হলে বোর্ডের অনুমতি নিতে হবে। সাবেক-বর্তমান ক্রিকেটার, বোর্ড কর্তারা কোনও পত্রপত্রিকায় লেখালিখি করতে পারবে না। টেলিভিশনে কোনও টকশোতে যেতে পারবে না। শুধু তাই নয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন কোনও পোস্ট বা মন্তব্য করতে পারবে না, যেটা বোর্ডের সরাসরি বা আকার ইঙ্গিতে সমালোচনা করা হয়।

চিঠির বিরুদ্ধাচরণ হলে দোষীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে ওই চিঠিতে। দুটি পয়েন্টে জানানো হয়েছে, উল্লেখিত নির্দেশগুলোর বাইরে গেলে বিসিবির মিডিয়া প্রোটোকল ভঙ্গকারী হিসেবে অভিযুক্ত করা হবে। সেক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের ব্যবস্থা নেবে বোর্ডের ডিসিপ্লিনারি কমিটি। বোর্ডের চুক্তির বাইরের ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার প্রযোজ্য হবে।

গণমাধ্যমে কোনও ধরণের সাক্ষাৎকার কিংবা মন্তব্য দিতে হলে প্রয়োজন হয় বিসিবির অনুমতি। ক্রিকেটার-ম্যানেজমেন্টের প্রতি এমন নির্দেশনা সবসময়ই থাকে। ২০১৮ সালের নতুন বছরে সেটা ‘মনে করিয়ে দিতে’ আবারও চিঠি দেওয়া হয়েছে সবাইকে।

পুরনো নির্দেশ নতুন করে মনে করিয়ে দেওয়ার পেছনে তামিম ইকবালের উইকেট বিষয়ে সমালোচনা করে পাঁচ লাখ টাকার জরিমানার বিষয়টিই জড়িয়ে আছে বলে মনে করা হচ্ছে। সর্বশেষ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) সংবাদ সম্মেলনে মিরপুরের উইকেট নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের অধিনায়ক তামিম। এমন ঘটনায় তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় বিসিবি। পরর্তীতে কিশোর সমর্থক পেটানোর দায়ে সাব্বিরের শুনানির দিনই তামিমের শাস্তি নির্ধারণ হয়।

এই মুহূর্তে কেন এই পুরনো নির্দেশনা? এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হয় বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুসকে। তিনি জানালেন, মিডিয়া প্রোটোকল আগে থেকেই ছিল। কিন্তু পুনরায় সবাইকে মনে করিয়ে দিতেই এই ব্যবস্থা। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিকেটাররা গণমাধ্যমে এমন কিছু মন্তব্য করেছে, যা বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।

জালাল ইউনুস বলেন, ‘এটা নতুন কোনও ব্যাপার নয়। আগে থেকেই ছিল। একটা প্রোটোকল, শুধু মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু ক্রিকেটারদের জন্যই নয়, বিসিবির সঙ্গে জড়িত সবার জন্যই এটা প্রযোজ্য। ক্রিকেটাররা সাম্প্রতিক সময়ে কোনোরকম অনুমতি ছাড়া অনেক কথা বলছে গণমাধ্যমের কাছে, যা অনেক বিতর্ক সৃষ্টি করছে। এগুলো ক্রিকেটারদের নিজেদের জন্যও যেমন ক্ষতিকর, বোর্ডের জন্যও ক্ষতিকর।’