‘ক্ষমতার ঘাড়ে রাবিশদের বসালে দেশ রসাতলে যেতে বাধ্য’

নির্বাচন কমিশনের বাহিরে ফিটফাট, ভিতরে সদরঘাট বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সোমবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে কখনোই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে না। নতুন বছরে জনগণের প্রত্যাশা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে হবে। ক্ষমতার ঘাড়ে রাবিশদের বসালে দেশ রসাতলে যেতে বাধ্য।

‘নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিএনপি’র পরাজয় নিশ্চিত’- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এ বক্তব্যে তীব্র সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, যদি তাই হয় তাহলে ওবায়দুল কাদের সাহেবরা নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে ভয় পান কেন? ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে দেশকে গণতন্ত্রীহীনতার গভীর খাদের দিকে ঠেলে দিলেন কেন? বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে তাদের গণবিরোধী কার্যক্রমে গোটা দেশ আজ অন্ধকারে নিমজ্জিত।

তিনি বলেন, অবৈধ ক্ষমতার মোহে রাবিশ ও জঞ্জালরা এমনভাবে ভিড় করেছে যে গোটা জাতি তাদের হাত থেকে এখন পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য হা-হুতাশ করছে। একমাত্র নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরে পাওয়ার মাধ্যমেই জনগণ নির্বোধ-রাবিশদের হাত থেকে নিজেদের স্বাধীনতা ফিরে পাবে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, গেল বছর সারা বিশ্বে হানাহানি, যুদ্ধ, সংঘাত, রক্তপাতের পাশাপাশি মানবজাতির নানা অগ্রগতিরও খবর পাওয়া গেছে। বিচ্ছেদ, বিনাশ, ব্যবধানের মধ্যেও বিশ্বের সৃষ্টিশীল মানবিক মানুষ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মানুষকে রক্ষা করার। বাংলাদেশের মতো কিছু দেশ গণবিরোধী সরকারের উৎপীড়ণে, পরাধীনতা ও অধঃপতনের শেষ সীমান্তে গভীর দুর্গতির মধ্যে এসে পড়েছে।

এক আইন, এক প্রভু হলে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পক্ষে ভয়ঙ্কর সঙ্কট মন্তব্য করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র লাল দেয়ালের অভ্যন্তরে বন্দী। গণতন্ত্রে অপরিহার্য শর্ত হলো বিরোধী দল। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি সরকারী নির্যাতনে আক্রান্ত। গেল বছরেও জনগণের অগ্রযাত্রাকে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী বলপূর্বক প্রতিহত করেছে। গণতন্ত্রে স্বীকৃত সভা-সমাবেশকে তারা বানচাল করেছে। কণ্ঠরোধ করার জন্য গণমাধ্যম থেকে শুরু করে নানা চিন্তা, মত ও বিশ্বাসের মানুষের ওপর নেমে এসেছে সরকারের নানা প্রকার আক্রমণের আঘাত।