হিন্দু শরণার্থী দিয়ে প্রথম রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করবে মিয়ানমার

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনে বাংলাদেশে প্রায় আট লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪৫০ জন হিন্দু শরণার্থী দিয়ে প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে চাচ্ছে মিয়ানমার। আগামী ২২ জানুয়ারি এ প্রত্যাবাসন শুরু হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির সমাজকল্যাণ ও ত্রাণমন্ত্রী ড. উইন মিয়াত আইয়ি।

গত ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সই হওয়া চুক্তি অনুযায়ী ২ মাসের মধ্যে প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা ছিল। ড. উইন মিয়াত আইয়ি বলেছেন, আগামী ২২ জানুয়ারি বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়া শুরু করবে মিয়ানমার। শুরুতে রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ফেরত নেওয়া হবে। ওইদিন (২২ জানুয়ারি) সীমান্তে ৪৫০ রোহিঙ্গা হিন্দুকে গ্রহণ করবে মিয়ানমার। এদিকে পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হকের নেতৃত্বে বাংলাদেশে মিয়ানমারের নাগরিক বিষয়ক টাস্কফোর্সের ১৭তম বৈঠক ও রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন বিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদের বৃহস্পতিবার ঢাকায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আশ্রয় নেওয়া আট লাখ রোহিঙ্গার তথ্য বাংলাদেশ সংগ্রহ করেছে। তাদের মধ্যে এক লাখ রোহিঙ্গার তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জন্য মিয়ানমারকে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ। তাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বাকিদের প্রত্যাবাসন করার চেষ্টা করবে বাংলাদেশ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, গত ১৯ ডিসেম্বর ঢাকায় বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের পর প্রথম বৈঠক আগামী ১৫ জানুয়ারি মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত হবে। তবে ২৩ নভেম্বর প্রত্যাবাসন চুক্তি সই হওয়ার তিন মাসের মধ্যে অর্থাৎ আগামী ২২ জানুয়ারি প্রত্যাবাসন শুরুর যে লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা কঠিন হতে পারে।

এদিকে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বলছে, প্রত্যাবাসন হতে হবে স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও সম্মানজনক। তা ছাড়া রাখাইন রাজ্য থেকে এখনো প্রতিদিন রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসছে। সেখানে রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনো সৃষ্টি হয়নি।

উল্লেখ্য, কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের (আরআরআরসি) প্রতিবেদন মোতাবেক বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী মিয়ানমার নাগরিকের সংখ্যা ৬ লাখ ৭২ হাজার ৭০ জন। অনুপ্রবেশ অব্যাহত থাকায় এ সংখ্যা বাড়ছে। গত ২৫ আগস্টের পূর্বে আগত মিয়ানমার নাগরিকের সংখ্যা ২ লাখ ৪ হাজার ৬০ জন।

তাদের মধ্যে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯ লাখ ৫ হাজার ৪৬৮ জন রোহিঙ্গার বায়োমেট্রিক নিবন্ধন করা হয়েছে।