পরকীয়ার জেরে খুন, ঘরের ভেতর পরিত্যক্ত লাশ

রৌমারীতে পরকীয়ার জেরে আব্দুল্লাহ (৪২) নামের এক ব্যক্তি খুন হয়েছে। খুন করে পরিত্যক্ত একটি ঘরে লাশ রেখে পালিয়ে যায় খুনিরা। বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ঘটনাটি বুধবার দিবাগত রাতে কোন এক সময় ঘটে বলে ধারনা করছে পুলিশ।

ঘটনাটি উপজেলার বাইশপাড়া গ্রামে ঘটেছে। নিহত আব্দুল্লাহ একই গ্রামের ইমান আলী মুন্সির ছেলে। আব্দুল্লাহ ৫ সন্তানের জনক। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকান্ডের সাথে কতজন জড়িত ছিল এটা নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না। তবে সুরতহাল রিপোর্টে জানানো হয়, নিহতের মাথার বামপাশের মাংস খুলে নেয়া হয়েছে। এছাড়াও বুক ও পেটের চামড়া ছিলে ভুড়ি বের করে ফেলা হয়েছে। পুলিশ আরো জানায়, এ ব্যাপারে উপজেলার মালদ্বীপ প্রবাসির স্ত্রী কুলসুম বেগমকে থানায় ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, মালদ্বীপ প্রবাসি আব্দুস সোবাহানের স্ত্রীর সঙ্গে বড়চর এলাকার মিন্টু মিয়ার দীর্ঘদিন যাবৎ পরকীয়ার সম্পর্ক চলছিল। গত কিছু দিন আগের একরাতে মিন্টু মিয়া কুলসুমের বাড়িতে এলে গ্রামবাসী তাকে আটক করে সালিশের ব্যবস্থা করে। সালিশে জানা যায়, কুলসুম ও মিন্টু মিয়ার কিছু ঘনিষ্ট মুহুর্তের ভিডিও ও ফোনালাপ রয়েছে আব্দুল্লাহর কাছে।

ঘটনাটি নিয়ে আব্দুল্লাহর সঙ্গে কুলসুমের ভগ্নিপতি সহিদুলের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মিন্টু মিয়াকে কানে ধরে উঠবোস ও চরথাপ্পর দিয়ে সালিশ শেষ করেন গ্রামবাসীরা। এ ঘটনার প্রায় ১০/১২ দিন পর আব্দুল্লাহ খুন হলে সন্দেহের তীর কুলসুম ও তার পরিবারের উপর পড়ে। ফলে কুলসুমকে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।

রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম জানান, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পরকীয়া ছাড়াও নারী ঘটিত একটি মামলার স্বাক্ষি ছিল আব্দুল্লাহ। এ দুটি বিষয় নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

মোঃ মনিরুজ্জামান, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি