‘শত চেষ্টা করেও দেশকে পাকিস্তানি ধারায় ফিরিয়ে নেয়া যাবে না’

আওয়ামী লীগ পাকিস্তানি কায়দায় দেশ চালাচ্ছে’ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বেগম জিয়াকে সবিনয়ে বলব শত চেষ্টা করেও বাংলাদেশকে পাকিস্তানি ধারায় ফিরিয়ে নেয়া যাবে না।

সোমবার সন্ধ্যায় জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সমিতির উদ্যোগে বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বেগম জিয়া একাধিকবার দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এতো দায়িত্বজ্ঞানহীন হবেন? আমাদের মধ্যে রাজনীতিতে ভিন্নতা, মত ও পথের পার্থক্য থাকতে পারে কিন্তু দেশ নিয়ে তো আমরা গর্ব করি। পাকিস্তানি ভাবধারায় দেশ চলাচ্ছি এমন কথা বেগম জিয়া বলতে পারেন?

মন্ত্রী বলেন, পরমাণু বোমা ছাড়া আর্থ সামাজিক সব সূচকে আমরা পাকিস্তান থেকে এগিয়ে। তাদের আছে পরমাণু বোমা, এটার আমাদের দরকার নেই। আমাদের পরমাণু বোমা আমাদের জনগণ। ৭১ এর চেতনায় জাগ্রত তরুণ সমাজই আমাদের পরমাণু বোমা।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে তরুণ সমাজকে যারা বিভ্রান্ত করেছে, সেই অবস্থা থেকে ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে তার শেকড়ের ধারায় ফিরিয়ে এনেছেন। বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, যখন দেশে স্বাধীনতাবিরোধীদের ফাঁসি ও তাদের রায় কার্যকর করছি তখন পাকিস্তানি সরকার জঘন্য ভাষায় কথা বলছিল তখন আপনি (বেগম খালেদা জিয়া) ও আপনার দল ছিল চুপচাপ। মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেব কোনো টু শব্দও করেন নাই। সেদিন কেন চুপ ছিলেন, তার জবাব আগামী নির্বাচনে দিতে হবে।

আমাদের ভুল হতে পারে কিন্তু চেতনা থেকে সরে যাইনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সম্প্রতি কলকাতা সফরে আমি সেখানকার সুশীল সমাজের সঙ্গে মতবিনিময় করেছিলাম। সেখানে অনেকই প্রশ্ন করেছেন আমরা কি আপোস করছি। আজকে অনেকেই এটা ছড়াচ্ছে, যাতে আমাদের বন্ধুরা আমাদের ভুল বোঝে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা কারও সঙ্গে আপোস করেন না।

তিনি বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের জোট হয়, কিন্তু সেটা রাজনৈতিক কিংবা আদর্শের নয়। এটা ভারতেও হয়ে থাকে। ১৯৭৫ পরবর্তী ২১ বছর সাম্প্রদায়িক শক্তি ডালপালা ছড়িয়েছিল। সেখান থেকে রাতারাতি কি করে আমরা মূল ট্র্যাকে নিয়ে আসব? এটা অনেক চ্যালেঞ্জের ও কঠিন। তারপরও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছি। আমরা সময়ের পরিবর্তনে বাস্তবতার নিরিখে কখনও কখনও কৌশল পরিবর্তন করি। কৌশল বদলানো মানেই আদর্শের সঙ্গে আপোস নয়।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা আশাবাদী, আমরা আত্মবিশ্বাসী, সাম্প্রদায়িক বিষবৃক্ষের যে ডালপালা গজিয়েছে তা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মূলোৎপাটন করতে পারব। আগামী নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক মানবতাবাদ, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও অর্জনের বাংলাদেশই বিজয়ী হবে।

মৈত্রী সমিতির সভাপতি প্রফেসর ইমেরিটাস এ কে আজাদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা, জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সঞ্জয় কে ভরদোয়াজ ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুবীর কুশারী প্রমুখ।