মতান্তরে না গিয়ে সরাসরি ক্ষমা চেয়ে নিলেন শিল্পা!

টিভি শো-তে একটি মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্কের ঝড় ওঠে কিছুদিন আগে। বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে বাল্মিকী কমিউনিটি শিল্পা শেঠি ও সালমান খানের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করে। ভারতের তফসিলি সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে টুইট করেছেন বলিউডের অন্যতম শীর্ষ অভিনেত্রী শিল্পা শেঠী। বিভিন্ন গোত্র- বর্ণের বৈচিত্র্যময় ভারতীয় সমাজের একজন হতে পারায় গর্বও প্রকাশ করেছেন এই অভিনেত্রী।

বাল্মিকী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্যের কারণেই সকলের কাছে ক্ষমা চান শিল্পা। টুইট করে তিনি জানিয়েছেন, কারও ভাবাবেগে আঘাত করা তার উদ্দেশ্য ছিল না। ভারতের মতো বৈচিত্রপূর্ণ এক দেশের নাগরিক হয়ে তিনি গর্বিত। প্রত্যেক সম্প্রদায়কে তিনি শ্রদ্ধা করেন বলেও স্বীকার করেছেন তিনি। তবে এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, তার মন্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি কারও ভাবাবেগে আগাত করতে চাননি। তবে অভিযোগ দায়েরের পরই এ নিয়ে আর কোনও মতান্তরে না গিয়ে সরাসরি ক্ষমা চেয়ে নিলেন শিল্পা।

প্রথম টুইটার বার্তায় শিল্পা জানান, “আমি অতীতে এক সাক্ষাৎকারে এমন কিছু শব্দ ব্যবহার করেছি যা নিয়ে ভুল বুঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছে। কারো অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার কোন উদ্দেশ্য নিয়ে আমি এমনটি বলিনি।”

অপর টুইটে তিনি লিখেন, “কেউ আঘাত পেয়ে থাকলে আমি এর জন্যে ক্ষমা চাচ্ছি। আমি বিভিন্ন গোত্র- বর্ণের বৈচিত্র্যময় এক রাষ্ট্রের অধিবাসী হিসেবে গর্বিত এবং আমি তাঁদের সবাইকে শ্রদ্ধা করি।”

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ভারতের তফসিলি সম্প্রদায়ের প্রতি অবজ্ঞাসূচক শব্দ ব্যবহারের অভিযোগে বলিউডের অন্যতম শীর্ষ অভিনেতা সালমান খান ও অভিনেত্রী শিল্পা শেঠীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সহ-অভিনয়শিল্পী ক্যাটরিনা কাইফের সঙ্গে একটি চলচ্চিত্রের প্রচারণার সময় নাচের দক্ষতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সালমান খান অপমানসূচক ‘ভাঙ্গি’ শব্দ ব্যবহার করেছেন। অন্যদিকে, ঘরে নিজেকে কেমন দেখায় এমন প্রশ্নের জবাবে শিল্পা শেঠী এই শব্দটি ব্যবহার করেছেন।

ভারতীয় সমাজে এই অপমানসূচক শব্দটি দিয়ে তফসিলি সম্প্রদায়ের লোকদের বোঝানো হয়ে থাকে। অভিযোগদায়েরকারী তফসিলি সম্প্রদায়ের একজন নেতা কিশোর মাসুম ভারতীয় বার্তা সংস্থা আইএএনএস-কে বলেন, “আমাদেরকে এমন বাজেভাবে উপস্থাপন করায় সালমান খান ও শিল্পা শেঠীকে ধিক্কার জানাই। আমরা অভিযোগ দায়ের করেছি। আইন অনুযায়ী অভিযুক্তকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হয়।”