গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে পবার আন্দোলন

রাজধানী ঢাকায় গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্যের পাশাপাশি সিটিং সার্ভিসের নামে বাড়তি ভাড়া আদায় বন্ধের দাবি জানিয়েছে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ঢাকায় চলাচলরত প্রায় ৯৫ শতাংশ ব্যক্তি মালিকানাধীন বাস-মিনিবাসের বেহাল অবস্থা। বহুবছর আগেই এসব বাসের আয়ু শেষ হয়েছে। প্রায় সব বাসেই সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা দেখা যায় না। স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াতের পরিবেশ নেই। গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত কিংবা পুলিশের বিশেষ অভিযানের মাধ্যেমে মোটরযান আইন প্রয়োগ করতে গেলে মালিকরা বাস চালানো বন্ধ রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে।

তারা বলেন, প্রতিটা বাসে ২০ শতাংশ আসন খালি নিয়ে চলবে -এমনটা ধরেই ভাড়া ঠিক করা হয়েছে। ফলে আলাদা করে সিটিং সার্ভিস চালু রাখা বা আলাদা ভাড়া নির্ধারণ করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। ঢাকায় শতকরা ৯৩-৯৪ ভাগ মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করে পায়ে হেঁটে, বাসে বা রিকশায়। মাত্র ৬-৭ ভাগ মানুষ প্রাইভেট গাড়ি ব্যবহার করে। প্রাইভেট গাড়িগুলো ঢাকার রাস্তায় শতকরা ৬৫ ভাগ দখল করে রাখে। ঢাকায় গণপরিবহন ব্যবস্থাকে উপেক্ষা করায় দ্রুত প্রাইভেট কার বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু যানজটমুক্ত মহানগরীর জন্য গণপরিবহণ ব্যবস্থার নৈরাজ্য দূর করা জরুরি।

এ সময় পবার পক্ষ থেকে বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরেন। সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে- বিদ্যমান মোটরযান আইন কঠোরভাগে প্রয়োগ এবং সময়োপযোগী মোটরযান আইন প্রণয়ন করা, রাজধানী ঢাকার গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ বিভিন্ন ধরনের নৈরাজ্য বন্ধে বিআরটিএ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, পরিবেশ অধিদফতর, ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ।

মানববন্ধনে পবার সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুস সোবহান, নাগরিক উদ্যেগের সভাপতি নাজিম উদ্দীন, মর্ডান ক্লাবের সভাপতি আবুল হাসানাত প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। গণপরিবহনে নৈরাজ্য বন্ধের দাবিতে আয়োজিত এ মানবন্ধন আয়োজন করে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)।

এছাড়া সহযোগিতায় ছিল নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম, মার্ডান ক্লাব, পরিবেশ আন্দোলন মঞ্চ, বিসিএইচআরডি, পুরান ঢাকা নাগরিক উদ্যোগ, সুবন্ধন সমাজ কল্যাণ সংগঠন, পরিবেশ উন্নয়ন সোসাইটি, স্বচেতন নগরবাসী, ইয়ুথ সান, মার্শাল আর্ট ফাউন্ডেশন, সূচনা নারী ও সমাজ উন্নয়ন সংস্থা, স্বপ্নের সিঁড়ি, দেবীদাস ঘাট সমাজ কল্যাণ সংসদ, বিডি ক্লিক, নগরবাসী সংগঠন, বাংলাদেশ নিরাপদ পানি আন্দোলন।