ইয়াবার চালান বন্ধে সহায়তা করবেন এমপি বদি

উখিয়া-টেকনাফের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবদুর রহমান বদি। গতকাল রোববার রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে আয়োজিত সীমান্ত সমস্যা ও সমাধান সম্পর্কিত মতবিনিময় সভায় ইয়াবাসহ অনেক বিষয়ই উঠে আসে।সবাই জানেন, ইয়াবা আসছে টেকনাফ থেকে। তাহলে সেটা কেন বন্ধ করা যাচ্ছে না? এলাকার সাংসদই বা কী বলেন। 

আবদুর রহমান বদি বলেন, ‘আমি নিজেও জানি না রিকশাচালক কী করে গাড়ি-বাড়ির মালিক হয়ে যাচ্ছে। আসলে ইয়াবা ব্যবসা করছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ নেতারা।’

তিনি আরও বলেন, তিনি সভায় বলেছেন এখন যেসব ইয়াবা চালান আটক করা হচ্ছে, তাতে কোনো পাচারকারী ধরা পড়ছে না। মেরিন ড্রাইভ সড়ক দিয়ে বড় বড় ইয়াবার চালান যাচ্ছে। ইয়াবার চালান বন্ধে সহায়তার কথা বলেন বদি।

মতবিনিময় সভায় বেশির ভাগ সাংসদ বলেন, সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীগুলোর মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। এই সমন্বয়হীনতার কারণে মাদক পাচার ও চোরাচালান বন্ধ হচ্ছে না। আবার সাংসদেরা এতে কোনো ভূমিকাও রাখতে পারছেন না। সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) চোরাচালান বন্ধের নামে সীমান্ত এলাকায় নিরীহ মানুষকে হয়রানি করছে, গ্রেপ্তারের নামে বাড়ি বাড়ি হানা দিচ্ছে। সন্ধ্যার পর জোর করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিচ্ছে।

সভায় সাংসদদের বিভিন্ন প্রস্তাবের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, মাদক এ দেশে তৈরি হয় না, ভারত ও মিয়ানমার থেকে আসে। টেকনাফ দিয়ে ইয়াবাসহ যে বিভিন্ন মাদক আসে তা বন্ধ করতে পরামর্শ দিয়েছেন সাংসদেরা। সীমান্তে হত্যা কমে এসেছে বলে দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হত্যার সংখ্যা ক্রমেই কমে আসছে। ২০০৮ সালে এ সংখ্যা ছিল ৬৮, এখন ২০১৭ সালে এসে তা ২১ জনে নেমে এসেছে।

মাদক চোরাচালানে সাংসদ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনেক সদস্য জড়িত এমন অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, জনপ্রতিনিধি বা বাহিনীর সদস্য যেই হোক না কেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। কারও সম্পৃক্ততা পেলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।