স্ত্রীর পরকীয়া ঠেকাতে স্বামীর সংবাদ সম্মেলন

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের নেওয়াশী (ফুলবাড়ী অংশ) গ্রামের প্রদীপ কুমার পাল বাপ্পি (৪২) স্ত্রীর পরকীয়ায় বিপাকে পড়েছেন। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি। প্রদীপ পাল একই গ্রামের মৃত শঙ্কর পালের বড় ছেলে।

রোববার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নাগেশ্বরী-ফুলবাড়ী উপজেলার সীমান্ত এলাকায় নেওয়াশী বাজার সংলগ্ন নিজ বাড়িতে স্থানীয় সাংবাদিকদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন প্রদীপ। ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী স্ত্রীকে ডিভোর্স দিতে পারছেন না তিনি। আবার প্রেমিকের সাথে সংসার না করতে দিলে স্ত্রী দিচ্ছেন আত্মহত্যার হুমকি। শ্বশুর বলছেন, মেয়ের কোনো ক্ষতি হলে তার দায়ভার নেবে জামাতা প্রদীপ কুমার। এমন ত্রিমুখি সমস্যার গ্যাঁড়াকলে পড়ে আইনের স্মরণাপন্ন হয়েছেন তিনি। তবে সেখান থেকেও কোনো সহযোগিতা না পেয়ে অবশেষে সাংবাদিকদের দারস্থ হয়েছেন প্রদীপ।

প্রদীপ চায় হয় স্ত্রী পরকীয়া থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুক, নয়তো ডিভোর্স নিয়ে চলে যাক। কিন্তু ডিভোর্সের কথা এলেই সামনে চলে আসছে ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা। সংবাদ সম্মেলনে প্রদীপ কুমার পাল বাপ্পির দুই শিশুকন্যা তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী মিষ্টি পাল ও প্রথম শ্রেণির ছাত্রী পূজা পালসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বাবার পাশে বসে মায়ের এই অনৈতিক কাজের সংবাদ সম্মেলনে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে ছিল অবুঝ দুই শিশু।

প্রদীপ কুমার পাল বাপ্পি অভিযোগ করেন, প্রায় ১১ বছর আগে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের বিশ্বনাথ কুন্ডুর মেয়ে বিথি রানী পালের (২৬) সঙ্গে তার বিয়ে হয়। সংসার জীবনে তাদের দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। দীর্ঘদিন এই সংসার জীবন অতিবাহিত হলেও স্ত্রী বিথি রানী পাল সবার অগোচরে বাড়ির পার্শ্ববর্তী বোয়ালভীর গ্রামের মৃত সুধীর চন্দ্র দাসের ছেলে দুই সন্তানের জনক বকুল চন্দ্র দাসের (৪৭) সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত রয়েছে। বিষয়টি তিনি ও তার পরিবারের লোকজন জানতে পেরে স্ত্রী বিথি রানী পালকে এই পথ থেকে সরে আসার জন্য নানাভাবে চেষ্টা করেন।

এ ঘটনায় স্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের অবগত করাসহ স্থানীয়দের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠকও করা হয়েছে। কিন্তু এসব কর্ণপাত না করে গত ৩ ডিসেম্বর রাতে স্ত্রী বিথি রানী পাল তার পরকীয়া প্রেমিক বকুলের বাড়িতে যায়। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা ওই বাড়ি থেকে স্ত্রীকে নিয়ে আসেন। এরপর থেকে তিনি স্ত্রী বিথি রানী পালকে সামলে রাখতে পারছেন না। স্ত্রী বিথি রানী পাল প্রেমিকের সংসার করবেন বলে স্বামীর বাড়িতে থাকতে চাচ্ছেন না।

অন্যদিকে, পরকীয়ায় বাধা হয়ে দাঁড়ানোর কারণে স্ত্রীর প্রেমিক বকুল চন্দ্র দাস তাকে প্রাণনাশের হুমকিসহ নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন বলে জানান ভুক্তভোগী প্রদীপ কুমার পাল বাপ্পি। এ অবস্থায় তিনি ফুলবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরির জন্য গেলেও পুলিশ সেই ডায়েরি গ্রহণ করেনি। তবে কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার বরাবর ২০/১২/২০১৭ ইং একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী প্রদীপ কুমার পাল বাপ্পি।

ভুক্তভোগী প্রদীপ কুমার পাল বাপ্পি আরও বলেন, ‘আমার অবাধ্য স্ত্রীর এই পরকীয়া প্রেমে আমি ধুঁকেধুঁকে মরে যাচ্ছি। স্ত্রীর পরকীয়া প্রেম থেকে আমি বাঁচতে চাই। স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমে আমার পাল বংশের মানসম্মান সব শেষ হয়েছে। তবুও দুই কন্যাসন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে আমি বাকি জীবনটি পাড় করতে চাই। আমার স্ত্রীকে আমি আইনি প্রক্রিয়ায় বিদায় জানানোর জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনসহ অন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের আইনি সহায়তা কামনা করছি’।

এ বিষয়ে প্রদীপ কুমার পাল বাপ্পির স্ত্রী বিথি রানী পালের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা মুখোমুখি হলে বিথি রানী পাল স্পষ্ট ভাষায় সাংবাদিকদের জানান, এ ঘটনায় তার স্বামী প্রদীপ কুমার পাল বাপ্পির কোনো দোষ নেই। তিনি তার স্বামীর সাথে আর সংসার করবেন না। পরকীয়া প্রেমিক বকুল চন্দ্র দাসের সঙ্গে ঠাকুর ঘরে তার মালাবদল হয়েছে। দীর্ঘ ৫ বছর ধরে বকুল চন্দ্র দাসের সঙ্গে তার প্রেম চলছে। বিথি রানী আরো জানান, আইনিভাবে স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে পরকীয়া প্রেমিক বকুল চন্দ্র দাসের সংসার করতে চান। এ অবস্থায় কেউ বাধা দিলে তিনি আত্মহত্যা করবেন বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

এ ব্যাপারে মুঠো ফোনে অভিযুক্ত বিথি রানী পালের পিতা বিশ্বনাথ কুন্ডুর সঙ্গে সাংবাদিকদের কথা হলে তিনি বলেন, হিন্দু ধর্মে মেয়েদের বিয়ে হয় একবার। আমাদের মেয়ে বিথি রানী পালকে আমরা ফিরে নিবো না। এ ঘটনায় মেয়ের কিছু হলে জামাতা প্রদীপ কুমার পাল বাপ্পিই দায়ী হবে বলে জানান তিনি।

মোঃ মনিরুজ্জামান, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি