বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হল বিটিভির ৫৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী

বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হল বাংলাদেশ টেলিভিশনের ৫৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। ৫৩ পেরিয়ে ৫৪ বছরে পা রেখেছে বাংলাদেশ টেলিভিশন। গৌরবময় ৫৪ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে আজ সোমবার দিনভর বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন করছে  চ্যানেলটি। ২৪ ডিসেম্বর দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে কেক কেটে শুরু হয় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপনের বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা।

বর্ণাঢ্য এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিটিভির মহাপরিচালক এসএম হারুন অর রশিদ, উপ-মহাপরিচালক (অনুষ্ঠান) সুরথ কুমার সরকার, মুক্তিযুদ্ধের মহান শব্দ সৈনিক ও বিশিষ্ট গণসঙ্গীত শিল্পী ফকির আলমগীর সহ আরো অনেকে।

সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন বিটিভির মহাপরিচালক এসএম হারুন অর রশিদ ও জেনারেল ম্যানেজার মো. মাসুদুল হক। সমন্বয়কারী ছিলেন প্রযোজক মাহবুবা ফেরদৌস। ২৫ ডিসেম্বর ৫৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বিটিভির ‘সোশ্যাল মিডিয়া উইং’ বিভাগের আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু হয়। উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। উদ্বোধন লাইভ স্ট্রিমিং-এর মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে বিটিভির ইউটিউব চ্যানেল।

‘সোশ্যাল মিডিয়া উইং’-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. মাহফুজার রহমান জানান, চলমান অনুষ্ঠানমালার সাথে এ চ্যানেলে থাকবে অতীতের কালজয়ী সব নাটক, গান, ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান। এগুলোর অনেককিছু ইউটিউবে বিচ্ছিন্নভাবে পাওয়া গেলেও এখানে থাকবে অনুষ্ঠানগুলোর মূল কপি। এগুলোর ছবির মানও ভালো।

প্রাথমিকভাবে চ্যানেলে যোগ হয়েছে নাটক কোথাও কেউ নেই, বহুব্রীহি, সংশপ্তক, এইসব দিন রাত্রি, ঢাকায় থাকি। আজ রবিবারসহ তুমুল জনপ্রিয় আরো সব অনুষ্ঠান যোগ হবে এ চ্যানেলে। যে অনুষ্ঠানগুলো শুধু বিটিভির আর্কাইভেই আছে সেগুলোও  থাকবে এখানে। থাকবে বর্তমান সময়ের উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠানও। অনুষ্ঠানে কেক কাটা শেষে সরাসরি প্রচারিত এই অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন ফরিদা পারভীন, সুবীর নন্দী, ফেরদৌস ওয়াহিদ, ইন্দ্রমোহন রাজবংশী, কিরণ চন্দ্র রায়, চন্দনা মজুমদার, শাহনাজ বেলী, অপু, স্মরণ, ঐশী, সুস্মিতাসহ আরো অনেকে।

১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর পাকিস্তান টেলিভিশন নামে ঢাকার ডিআইটি ভবনে নীচতলায় জাপানের এনইসি করপোরেশনের সহায়তায় সরকারি এই চ্যানেলটির পথচলা শুরু হয়। পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধের পর এটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)।

এর আগে, ১৯৬৭ সালে টেলিভিশন করপোরেশন ও স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশে ‘বাংলাদেশ টেলিভিশন’ একটি সরকারি গণমাধ্যমে রূপান্তরিত হয়। শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে আধুনিক প্রযুক্তি সংযুক্ত করে ১৯৭৫ সালের ৯ ফেব্রুয়াির ডিআইটির ছোট পরিসর থেকে রামপুরার বৃহত্তর পরিমণ্ডলে স্থানান্তর করা হয় কেন্দ্রটি। প্রথমদিকে সাদা-কালো সম্প্রচার দিয়ে হলেও ১৯৮০ সালে রঙিন সম্প্রচারে আসে বিটিভি।