অনশনের তৃতীয় দিন, পলিথিন বিছিয়ে শিক্ষকদের রাত্রিযাপন

প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে জাতীয় বেতন স্কেলের ১১তম গ্রেডে বেতনের দাবিতে জাতীয় শহীদ মিনারে আমরণ অনশন কর্মসূচি তৃতীয় দিনের মতো আজো চলছে। রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গত শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল থেকে কয়েক হাজার শিক্ষক এ অনশন কর্মসূচি পালন করে আসছেন।

বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক মহাজোটের উদ্যাগে শিক্ষকদের এ অনশন কর্মসূচি চলছে। মহাজোটের অধীনে সহকারী শিক্ষকদের ১০টি সংগঠনের হাজার হাজার শিক্ষকরা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে এ অনশনে যোগ দিয়েছেন। শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে পাটি, পত্রিকা, পলিথিন বিছিয়ে পৌষের শীতের দুই রাত পার করেছেন ‘মানুষ গড়ার কারিগর’ শিক্ষকরা। শিক্ষকরা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরবেন না। এমনকি আগামী ১ জানুয়ারি বিনামূল্যের নতুন বই বিতরণ উৎসবেও তারা যোগ দেবেন না।

শিক্ষক নেতারা জানান, অনশনে প্রায় অর্ধশত শিক্ষক অসুস্থ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালসহ রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পুলিশ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষকরা শুধু শনিবার শহীদ মিনারে অবস্থানের জন্য অনুমতি নিয়েছিলেন। গতকাল রোববার শহীদ মিনার ছাড়ার জন্য শিক্ষকদের অনুরোধও জানিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু অনড় শিক্ষকরা তাতে রাজি হননি। তবে আজ (সোমবার) অনশন স্থলে মাইক ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শিক্ষকরা।

অনশনে জোটের নেতারা বলছেন, প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে জাতীয় বেতন স্কেলের ১১তম গ্রেডে তাদের বেতন দিতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা অনশন চালিয়ে যাবেন। এখান থেকে বিজয় না নিয়ে তারা ফিরে যাবেন না। গতকাল রবিবার বিকেলে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী শিক্ষকদের আমরণ অনশনে এসে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। তিনি শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন।