হনুমান দেবতার অবতারে কৃষ্ণ যাদব!

ভারতের উত্তরপ্রদেশের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে জন্ম নিয়েছে ছোট্ট এক শিশু। তবে সে অন্য শিশুদের মতো স্বাভাবিক আকৃতি নিয়ে জন্মায়নি। তার পশ্চাৎদেশে রয়েছে লেজের মতো লম্বা একটি মাংসপিন্ড। গ্রামবাসীরা কৃষ্ণ যাদব নামে ওই শিশুকে দেবতা মনে করে পূজা শুরু করেছে।  শিশুটি বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার ‘লেজের’ আকারও বাড়ছে।

শিশুটির নাম কৃষ্ণ যাদব। জন্মের পর বেশ কিছুদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিকই ছিল।  কিন্তু তার লেজের আকৃতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে নিয়ে কৌতূহল বাড়তে থাকে সাধারণ মানুষের। এক পর্যায়ে ওই শিশুকে দেবতা মনে করে পূজা শুরু করেন স্থানীয়রা।  দেশটির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এসে তাকে পূজা করে যায়। তাদের বিশ্বাস কৃষ্ণ হিন্দু পুরাকাহিনীর চরিত্র ‘হনুমান দেবতা’।ওই দেবতার সঙ্গে তুলনা করেই তাকে পূজা করছে তারা।

যদিও চিকিৎসকরা বলছেন, এটা খুব একটা অস্বাভাবিক নয়। বিরল একটি সমস্যার কারণে কিছু মানবশিশুর এমন লেজ হয়। তবে চিকিৎসার মাধ্যমে এ লেজ ফেলে দেওয়া যায়। এ বিষয়ে কৃষ্ণ যাদবের বাবা রামসুন্দর যাদব বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম যে এটা বুঝি ঈশ্বরেরই দেয়া এবং আমার সন্তান হনুমানের অবতার হয়ে এসেছে। কিন্তু যখন আমরা ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলি, তখন তারা জানায় যে, ছোটো একটা অপারেশন করে ওই লেজ খসিয়ে দেয়া যাবে।’

কয়েকমাস আগেই কৃষ্ণের বাবা-মা ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে অপারেশনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু রহস্যজনকভাবে অপারেশনের তারিখের আগেই অসুস্থ হতে শুরু করে কৃষ্ণ। কৃষ্ণের প্রতিবেশি কবিতা এ ব্যাপারে বলেন, এটা ঈশ্বরের পক্ষ থেকে সতর্কবানী। আমরা যদি কৃষ্ণের লেজ অপসারণ করি তবে ঈশ্বর আমাদের অভিশাপ দিতে পারেন। আর এই ঘটনা শুধু একবারই নয়, যতবারই অপারেশনের চেষ্টা করা হয় ততবারই কোনো না কোনো ঝামেলা তৈরি হচ্ছেই।  কখনো টাকা পাওয়া যায় না, আবার কখনো কৃষ্ণের প্রচণ্ড জ্বর উঠে যায়। আর এ কারণে তার অস্ত্রোপচারও করা হয়নি।

উল্লেখ্য, হনুমান হলেন হিন্দু ধর্মের একজন দেবতা।  যিনি রামের একনিষ্ঠ ভক্ত। হিন্দু পুরাণে হনুমানকে বিশেষ স্থান দেয়া হয়েছে। রামায়ণ বর্ণিত হনুমান পবননন্দন হিসেবে হিন্দুদের নিকট পূজনীয়। রামায়ণের মূল চরিত্র রাম যাকে হিন্দুরা ভগবান বিষ্ণুর অবতার হিসেবে দাবি করে তার অনুগত চরিত্র হিসেবে পাওয়া যায় এই হনুমানকে। তিনি বায়ুদেবতার পুত্র। হিন্দুদের কাছে হনুমান রামভক্ত হিসেবে পরিচিত।  রামায়ণের কাহিনী অনুসারে হনুমান সীতাকে উদ্ধারের জন্য লংকায় অভিযান চালান।