ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন

বাংলাদেশ সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন দাখিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। আজ (রোববার) সকালে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন করেন। পরে সকালে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলে আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে ৯০৮ পৃষ্ঠার রিভিউ ফাইল করা হয়েছে।

এর আগে গত সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অপসারণে করা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রিভিউ শুনানিতে আন্তর্জাতিক আইনজীবী নিয়োগের অনুমতি চেয়ে বার কাউন্সিলে আবেদন করা হয়। বার কাউন্সিলে এ আবেদন করেন হাইকোর্টে ষোড়শ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিটকারী নয় আইনজীবীর একজন একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া।

রেজিস্ট্রি ডাকযোগে এ আবেদন করা হয়। আবেদনে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রিভিউ শুনানিতে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজ্ঞ অ্যাডভোকেট আগারওয়াল আমবুজ, অ্যাডভোকেট আগারওয়াল অনামিকা গুপ্তা ও অ্যাডভোকেট অধিমোলাম ভেংকটারমনকে নিযোগের অনুমতি চাওয়া হয়। আবেদন পাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রার্থনা করা হয়েছে।

বিচারপতি অপসারণ সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে ২০১৬ সালের ৫ মে যে রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট, চলতি বছরের ৩ জুলাই তা বহাল রেখে রায় দেয় প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ। এরপর ১ আগস্ট পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। প্রধান বিচারপতি তাঁর রায়ে গণতন্ত্র, রাজনীতি, সামরিক শাসন, নির্বাচন কমিশন, সুশাসন, দুর্নীতি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপসহ বিভিন্ন বিষয়ে পর্যবেক্ষণ দেন।

ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল রেখে আপিল বিভাগ যে রায় দিয়েছে, তা বাতিল করার জন্য যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তাব গত ১৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ পাস হয়। ওই রায়ে জাতীয় সংসদ সম্পর্কে ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রধান বিচারপতির ‘অসাংবিধানিক, আপত্তিকর, অপ্রাসঙ্গিক পর্যবেক্ষণ’ বাতিলের জন্য আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টিও একই প্রস্তাবে পাস হয়।

এরপর জাতীয় সংসদে আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করবেন জানিয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আশা প্রকাশ করেন, এতে তারা ‘কামিয়াব’ হবেন। ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাস হয়। এই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একই বছরের ৫ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের নয়জন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।

এরপর গত বছরের ৫ মে হাইকোর্টের তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় ঘোষণা করেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ গত ৪ জানুয়ারি আপিল করে। শুনানি শেষে ১৩ জুলাই আপিল বিভাগ সর্বসম্মতিতে ওই আপিল খারিজ করে রায় দেন।