‘মিথ্যা তথ্যের ওপর বেড়ে উঠছে তরুণ প্রজন্ম’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, এক ঘণ্টা ইন্টারনেটের বাইরে থাকলে মনে হয়, পৃথিবী বোধ হয় কলাপস হয়ে গেল। তিনি বলেন, তাই প্রযুক্তিকে ভয় না পেয়ে কাজে লাগানো শিখতে হবে তরুণদের।

রোববার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (বার) শহীদ সফিউর রহমান মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ পার্লামেন্ট-২০১৭’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃায় তিনি এ কথা বলেন। বর্তমানে ভুয়া নিউজের মাধ্যমে একটি পক্ষ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধ করছে বলে মন্তব্য করেছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ফেক নিউজ বা ফেব্রিকেটেড নিউজ করার মাধ্যমে একটি পক্ষ অন্যপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে ড্যামেজ করতে চায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে যারা রাষ্ট্র চালাবে, দেশের নেতৃত্বে আসবে, সেই তরুণ প্রজন্ম মিস গাইডেড হচ্ছে, মিথ্যা তথ্যের ওপর বেড়ে উঠছে।

আমীর খসরু বলেন, বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তিকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু এর অপব্যবহার রোধের মতো বিশেষজ্ঞও তৈরি হয়নি। তরুণদের এ সেক্টরে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি হয়েছিলো তথ্যপ্রযুক্তির ফাঁক-ফোকড় ব্যবহারের মাধ্যমে। এই রিজার্ভ লাখ লাখ মানুষের ব্যক্তিগত ইচ্ছা-অনিচ্ছাকে জলাঞ্জলি দিয়ে বিদেশের মাটিতে রক্ত-ঘাম ঝরানোর মাধ্যমে অর্জিত। তাই রিজার্ভ চুরি মানে কেবল কিছু টাকা চুরি যাওয়া নয়। এতে দেশের মানুষের প্রেস্টিজ ও প্রাইভেসিও চুরি হয়েছে।

আমীর খসরু বলেন, আগে ঢাকার ট্রাফিক অসহ্য মনে হলেও এখন সে অবস্থা পরিবর্তন হয়েছে। তার মানে এই নয় যে জ্যাম বন্ধ হয়েছে। যে পরিবর্তনটা আমার মধ্যে এসেছে, তাহল গাড়িতে উঠলেই আমি ইন্টারনেটে আমার ইন্টারেস্টেড এরিয়াতে ঢুকে পড়ি। আমি কারও বক্তৃতা পড়ি বা দেখি। রাজনৈতিক আপডেট জেনে নেই। ব্যবসার খোঁজ-খবর করি।

‘আমাদের জনসংখ্যার ৬৫ শতাংশেরই বয়স ৩৫ বছরের নিচে। এরই মধ্যে আমরা ১০টি বছর নষ্ট করে ফেলেছি। হাতে আছে আর মাত্র ২০ বছর। এই সময়ের মধ্যে এই তারুণ্যকে ব্যবহার করতে না পারলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বলে কিছু থাকবে না। একটি নির্বাচিত সরকার যদি ক্ষমতায় না থাকে তবে এ সুযোগ কাজে লাগানো সম্ভব না।’

এ সময় তিনি বলেন, বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি সুবিধা ব্যবহার করে ফেক নিউজ বা ফেব্রিকেটেড নিউজের মাধ্যমে একটি পক্ষ অপরাধ করছে।