সরকার দেশে বিভাজন সৃষ্টি করছেঃ ড. আব্দুল মঈন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ও বিপক্ষের শক্তির কথা বলে সরকার দেশে বিভাজন সৃষ্টি করছে। শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ ও শহীদ জিয়া’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম এ সভার আয়োজন করে।

মঈন খান বলেন, যারা প্রত্যক্ষভাবে যুদ্ধ করেছিল তারা মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু যারা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সীমানা পার হয়ে, লাফ দিয়ে অন্য দেশে গিয়েছিল কাপুরুষের মতো তারাও কি মুক্তিযোদ্ধা? এ প্রশ্ন আমাদের সাহস করে করতে হবে। এ সময় তিনি বিএনপির ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সম্পর্কে বলেন, যে দলটি স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় জন্মই হয়নি সে দলটি কীভাবে স্বাধীনতাবিরোধী হয়। যে দলের প্রতিষ্ঠাতা স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান, সে দলকে তারা (আওয়ামী লীগ) কীভাবে বলে স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি? সেদিন বিএনপি নামে কেউ তো ছিল না। ৭৫ সালের ঘটনার সেই সাইকোলজিতে কেন তারা বিএনপিকে শত্রু হিসেবে ভাবে? এর কারণ হলো আওয়ামী লীগের একটি সমস্যা হয়েছে, সে সমস্যাটির নাম হীনমন্যতাবোধ।

তিনি আরও বলেন, তাদের (আওয়ামী লীগের) এ হীনমন্যতাবোধের কারণ হলো, তারা দিনের বেলায় মিডিয়া টেলিভিশনে যায়-ই বলুক না কেন, রাতে চিন্তা করে যে, তারা স্বাধীনতা যুদ্ধের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে বীরের মতো সামনে না গিয়ে কাপুরুষের মতো পালিয়েছিল। সে কারণেই তারা বিএনপিকে সহ্য করতে পারে না।

‘তারা এটা করার কারণ হচ্ছে, বিশ্বে যখন ঔপনিবেশিকতা বিস্তার করেছিল কয়েক শতাব্দী ধরে তখন এ ঔপনিবেশিক শক্তিরা বিভিন্ন দেশে খবরদারি করতো। তখন তারা একটি অস্ত্র ব্যবহার করতো, সে অস্ত্রের নাম ডিভাইড অ্যান্ড রুল, অর্থাৎ বিভাজন। তারা সেখানকার জনগণকে দুই-তিনটি ভাগে ভাগ করে দুর্বল করে দিত, যাতে তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঔপনিবেশিক শক্তিকে প্রতিহত করে স্বাধীনতা অর্জন না করতে পারে। দুঃখের বিষয় আজকে একটি স্বাধীন দেশের সরকার নিজেদের কার্যক্রম দিয়ে প্রমাণ করেছে তারা ওই ঔপনিবেশিক শক্তির প্রতিনিধি। তারা (সরকার) তাদের ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করার জন্য সেই ডিভাইড অ্যান্ড রুল অনুসরণ করছে।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটর সাংগঠনিক সম্পাদক সামা ওবায়েদের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের প্রচার সম্পাদক লায়ন সাইফুল ইসলাম সেকলের সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজ আব্বাস, বিএনপির মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আবদীন প্রমুখ।