আগামী সংসদ নির্বাচনে আ. লীগ বিজয়ী হবেঃ কাদের

রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হারলেও আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আজ (শনিবার) সকালে আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাকের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বনানীতে তার কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, রংপুরের পরাজয়ের বিভিন্ন দিক আমরা দলীয় ফোরামে খতিয়ে দেখব। তবে এ নির্বাচনের প্রভাব জাতীয় নির্বাচনে পড়বে না। তিনি বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হবে। এতে আমাদের আত্মবিশ্বাসের কোনো ঘাটতি নেই।

রসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ৩ বিজয়

ওদিকে, রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হারলেও তিনটি বিষয়ে আওয়ামী লীগের বিজয় এসেছে বলে মনে করছেন দলটির নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা।

এই তিন বিজয় হলো—প্রথমত, দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন হয় না বলে বিএনপির যে অভিযোগ, তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে; দ্বিতীয়ত, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ভূমিকা নিয়ে কোনও মহল প্রশ্ন তুলতে পারেনি এবং তৃতীয়ত, জাতীয় পার্টির সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখতে পেরেছে।

ক্ষমতাসীন দলটির নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলেন, আওয়ামী লীগ সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচনের ধারা বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে চায়। কুমিল্লা ও রংপুর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সেই ধারা ফিরিয়ে আনতে পেরেছে। এ কারণেই এ নির্বাচনে পরাজিত হলেও কার্যত আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়েছে। নিজেদের পরাজয় হলেও এই নির্বাচনকে গণতন্ত্রের সুষ্ঠু লক্ষণ হিসেবে দেখছেন তারা।

‘বড় ব্যবধানের পরাজয়কে অশুভ লক্ষণ’

তবে নৌকার ভোট কমে যাওয়া এবং বড় ব্যবধানের পরাজয়কে অশুভ লক্ষণ বলে মনে করছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। তাদের মতে, এজন্য প্রথম কারণ রংপুরের অভ্যন্তরীণ কোন্দল। দ্বিতীয় রংপুর লাঙ্গলের ঘাঁটি। এই দুই কারণে নৌকার প্রার্থী ভরাডুবি হয়েছে বলে স্বীকার করছেন তারা।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান বলেন, ‘রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরাজিত হলেও আমরা হ্যাপি। আমরা বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ধারা ফিরিয়ে আনতে চাই। সেই ধারায় রংপুর নির্বাচন হয়েছে। নৌকার প্রার্থী হারলেও আমরা মনে করি আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়েছে। এর কারণ হলো—সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে বিএনপির যে অভিযোগ, দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়, তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।’ পরাজয় ঘটলেও ভোটের ব্যবধান প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বিএনপির নেতাকর্মীরা নিজেদের প্রার্থীর পরাজয় নিশ্চিত হয়ে লাঙ্গলের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন।’

ফারুক খান বলেন, ‘তারপরও ভালো করে মূল্যায়ন করতে হবে পরাজয়ের কারণ। দলীয় কোন্দল দায়ী কিনা, তাও মূল্যায়ন করতে হবে।’

‘রংপুরের মানুষ বিবেককে নয়, আবেগকে বেছে নিয়েছে’

সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘রংপুরের মানুষ বিবেককে নয়, আবেগকে বেছে নিয়েছে। আর তাই আওয়ামী লীগ হেরেছে। রংপুর এরশাদের এলাকা। সেখানে গিয়ে তিনি নানা রকম আবেগতাড়িত কথাবার্তা বলেছেন। তার এসব বক্তব্যে রংপুরের মানুষ গা ভাসিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘জাতীয় পার্টি রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এমনও অপপ্রচার করেছে যে, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মহাজোটের প্রার্থী। সেখানে লাঙ্গল জিতলেও শেখ হাসিনার প্রার্থীরই জেতা হবে। আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে বড় ধরনের অপপ্রচার হয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের শীর্ষ-পর্যায়ের নেতারা এমপি-মন্ত্রী হওয়ায় প্রচারণায় যেতে পারেননি।

অপপ্রচারের জবাবও দিতে পারেননি। এগুলোও হারের কারণ।’ তবে এই স্থানীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ হারলেও জাতীয় নির্বাচনে এই প্রভাব পড়বে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।