‘দারিদ্র্য বিমোচন এবং বৈষম্য নিরসনে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে’

বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে বিশ্বায়নের প্রভাব বিশ্লেষণ করে, সে অনুযায়ী নীতিমালা প্রণয়ন করা দরকার বলে মনে করেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। এক্ষেত্রে নারী সমাজকে অর্থনীতির মূল ধারায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ মিলনায়তনে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির ২০তম দ্বিবার্ষিক সম্মেলন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য করা হয়েছে ‘অর্থশাস্ত্র ও নৈতিকতা’।স্পিকার বলেন, অর্থনীতিতে অনেকেই স্বপ্রণোদিত হয়েই অগ্রসর হন। এটিকে স্বার্থপরতা বলা উচিত নয়। আমরা অনেক সময় চাহিদা ও যোগানের যোগসূত্র বিশ্লেষণের মাধ্যমে দারিদ্র্য নিরসনের কাজ করতে পারি।

তিনি আরও বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং বৈষম্য নিরসনের ক্ষেত্রে আরো কার্যকর নীতি ও পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। বিশ্ব অর্থনীতির দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই, উন্নত দেশগুলোতেও অর্থনৈতিক বৈষম্য প্রবল। এমনকি এমডিজিতেও অর্থনৈতিক বৈষম্যের কথাটি সেভাবে গুরুত্ব পায়নি। তবে এসডিজিতে অর্থনৈতিক বৈষম্য নিরসন একটি বড় বিষয় হিসেব গুরুত্ব পেয়েছে। সমন্বিত প্রয়াস ও পরিকল্পনার কারণে দেশে অর্থনৈতিক অগ্রগতি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের ফলে দারিদ্রের হার ৪০ শতাংশ থেকে কমে ২৩ শতাংশে নিয়ে নেমে এসেছে।

অনুষ্ঠানে, অধ্যাপক ড. রেহমান সোবহান বলেন, টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে হলে রাজনীতিতে অর্থনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন নিরসন করতে হবে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন আনা দরকার। আর রাজনীতিতেও অসমতা রয়েছে। এখন যাদের হাতে টাকা আছে, তারাই নেতা হচ্ছেন। কিন্তু এই রাজনীতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাজউদ্দীন আহমদ করেননি। রাজনীতিতেও অর্থনৈতিক নৈতিকতার বিষয়টি ভাবতে হবে।