বৃহষ্পতিবার থেকে বান্দরবানের ঐতিহ্যবাহী রাজপূণ্যাহ শুরু

বান্দরবানে শুরু হতে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী খাজনা আদায়ের উৎসব “রাজপূণ্যাহ”। বৃহস্পতিবার সকালে পুরাতন রাজবাড়ীর মাঠে আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি এ রাজপূণ্যাহ্ মেলার উদ্বোধন করবেন।

প্রতি বছরের ডিসেম্বর মাসে বোমাং রাজা প্রজাদের কাছ থেকে খাজনা আদায় উপলক্ষে এ মেলার আয়োজন করে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় বোমাং সার্কেলের ১১৭তম রাজা উ চ প্রু তার অর্ন্তগত ৭টি উপজেলার ৯৫টি মৌজা এবং রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই ও রাজস্থলী দুটি উপজেলার ১৪টি মৌজাসহ মোট ১০৯টি মৌজার হেডম্যান, প্রায় আট শতাধিকেরও বেশি কারবারী, রোয়াজার কাছ থেকে জুমের বাৎসরিক খাজনা ও ঐতিহ্যবাহী উপঢৌকন আদায় করবেন ।

খাজনা প্রদানের জন্য দুরদুরান্ত থেকে আগত এসব প্রজাদের মনোরঞ্জনের জন্য স্থানীয় রাজার মাঠে তিনদিন ব্যাপী চলবে রাজপূণ্যাহ মেলা। এতে থাকবে নাগরদোলা, পুতুলনাচ, হাউজি, সার্কাস, মৃত্যুকুপ, বিচিত্রানুষ্ঠান ও রাত ভর চলবে যাত্রা পালা। এছাড়াও হরেক রকমের পসরা সাজিয়ে বসবে দোকানীরা। ঐতিহ্যবাহী এ মেলা দেখতে প্রতিবছর ভীড়জমে প্রচুর দেশী বিদেশী পর্যটকের। জানা যায়, ১৭৬৪ বর্গমাইল এলাকায় বান্দরবানের ৯৫টি রাঙামাটি রাজস্থলী ও কাপ্তাই উপজেলার ১৪টিসহ ১০৯টি মৌজা নিয়ে বান্দরবান বোমাং সার্কেল গঠিত। ১৮৭৫ সালে পঞ্চমতম বোমাং রাজা সাকহ্ন ঞো’র আমল থেকে বংশ পরম্পরায় ধারাবাহিকভাবে প্রতি বছর ঐতিহ্যবাহী রাজপূণ্যাহ উৎসব পালিত হয়ে আসছে।

রাজপুত্র চসিং প্রু বণি জানান, রাজ পূণ্যাহ আমাদের পরিবারের একটি ঐতিহ্যবাহী উৎসব,প্রতিবছর একবার এটি অনুষ্ঠিত হয়।এবারও এ উৎসবকে ঘিরে সবধরণের আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে। পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় সাংবাদিকদের জানান, রাজ পূণ্যাহ উপলক্ষে জেলা শহরে দেশী বিদেশী পর্যটকসহ বিপুল লোকজনের সমাগম ঘটবে,তাই তাদের নিরাপত্তার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।

সোহেল কান্তি নাথ, বান্দরবান প্রতিনিধি