এক ঘরে চার নারীকে ধর্ষণ!

চট্টগ্রামে প্রবাসীর ঘরে ডাকাতির পর তিন গৃহবধূসহ চার নারীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) রাতে কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নের শাহ মিরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, সেদিন বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য ছিল না। ধর্ষণের শিকার চার নারীর তিনজন জা। অন্য নারী তাঁদের আত্মীয়। তিনি বেড়াতে এসেছিলেন।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, জানালার গ্রিল কেটে সেদিন চার ডাকাত বাড়িতে ঢুকেছিল। ডাকাতরা এসময় ১৫ ভরি স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে গেছে। ঘটনার পরদিন বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) কর্ণফুলী থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হলেও পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করে। উল্টো অভিযোগকারীকে পুলিশ নানাভাবে বিব্রত করে। সর্বশেষ বিভিন্ন চাপের মুখে পাঁচ দিন পর রোববার (১৭ ডিসেম্বর) কর্ণফুলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

সমাজের লোক লজ্জায় সংবাদ কর্মীদের এ ঘটনাটি তাৎক্ষণিক জানায়নি বলে পরিবার সূত্র জানায়। ক্ষতিগ্রস্থদের ধারণা ডাকাতিতে অংশ নেয়া অনেকের বাড়ী ঘটনাস্থলের আশেপাশে। গত রবিবার ১১ টায় ঐ পরিবারের লোকজন স্থানীয় এমপি ও ভূমি মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের সাথে দেখা করে বিষয়টি অবহিত করেন।

এসময় তিনি ২৪ ঘন্টার আসামীদের গ্রেফতার সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চট্টগ্রাম পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দেন। পরে কর্ণফুলী থানার ওসি (তদন্ত) হাসান ইমাম ঘটনাস্থলে গিয়ে ডাকাতি ও ধর্ষণের দায়ে পৃথক ২টি মামলা দায়ের করেন। মামলা নেওয়ার পর এ ঘটনায় এ পর্যন্ত দুজন গ্রেপ্তারও হয়েছে। রোববার রাতে কর্ণফুলী থানার পুলিশ মোহাম্মদ সুমন ওরফে আবু (২৩) নামের এক যুবক এবং গতকাল সোমবার কালু নামের আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

জানা যায়, পাকা দালানের চারটি কক্ষে নারীদের ধর্ষণ করে। এসময় ডাকাতরা ঘরে থাকা দেড় বছরের শিশু ও বৃদ্ধ মহিলাকে ছুরি ও অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখে বলে মামলার এজাহার সূত্রে প্রকাশ। ফলে প্রবাসীর তিন গৃহবধূ সহ চার নারীকে ডাকাত দলের ধষর্ণের সময় চিৎকার করতে পারেনি।

ইউপি চেয়ারম্যান দিদারুল ইসলাম বলেন, ১২ ডিসেম্বর রাত প্রায় একটার দিকে একটি বাঁশ বেয়ে বাড়ির পাকা প্রাচীর পেরোনোর পর জানালা ও সংযুক্ত গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ করে ডাকাত দল। তারা প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থান করে বাড়িতে। তাদের বৃদ্ধ শাশুড়ি ও ছোট বাচ্চাদের মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে জিম্মি করে তাদের আলাদা কক্ষে ধর্ষণ করে। বাড়িতে বেড়াতে আসা প্রবাসীর এক বোনকেও ধর্ষণ করে দুর্বৃত্তরা। যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার, মূল্যবান সামগ্রী ও ৫টি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়।

দিদারুল ইসলাম বলেন, ধর্ষণের শিকার নারীদের এলাকার সন্দেহভাজন কয়েকজন তরুণের ছবি দেখানো হয়। এর মধ্যে দুজনকে তাঁরা শনাক্ত করেন। ওই দুজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ইউপি চেয়ারম্যান আরও জানান, ঘটনাটি তিনি একদিন পরেই জানতে পারেন। পুলিশকে এব্যাপারে জানানো হলেও তাৎক্ষণিক তারা ঘটনাস্থলে যায়নি এবং আইনগত ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি করেছে।

মামলা নিতে দেরি করার কারণ জানতে চাইলে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দুল মোস্তফা বলেন, প্রথমে তাঁরা ধর্ষণের কথা বলেননি। তাঁরা গ্রামের নামও ভুল বলেছিলেন। সেটি পটিয়া থানায় পড়ায় তাঁদের সেখানে পাঠানো হয়েছিল। পরে ২-১ দিন পর এসে তাঁরা ঠিক নাম বলেন। তাই কর্ণফুলী থানায় অভিযোগ নেওয়া হয়েছে।

কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজেন ব্যানার্জি জানান, এ ঘটনা খুবই দুঃখজনক। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে নিরাপত্তা দেয়ার জন্য সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। দুর্বৃত্তদের গ্রেফতারে প্রশাসন কাজ শুরু করেছে।